কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ৮ ডিসেম্বর
মাহবুব-উল আলম হানিফ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:৪২ | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:৪৮
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন শেষ করেছে প্রসিকিউশন। এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আজ মঙ্গলবার এ দিন ঠিক করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্য হলেন- বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
সূচনা বক্তব্যে মামলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরার পাশাপাশি সাক্ষীর তালিকা, অডিও-ভিডিও, পত্রপত্রিকার তথ্যপ্রমাণের বিবরণ দেন। একইসঙ্গে এ অপরাধের দায়মুক্তির সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন। তবে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার কারণে যেন বিচার না হয়; এমন আর্জি জানান আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় মোট সাক্ষী ৩৮ জন। এর মধ্যে শহীদ পরিবারের ৮, প্রত্যক্ষদর্শী ৮, আহত ৮, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ৬, পুলিশ ১, সাংবাদিক ১, জব্দ তালিকা ২, বিশেষজ্ঞ ২, বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ১ ও মূল তদন্ত কর্মকর্তা ১ জন রয়েছেন। এদিন প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৮ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়া বাকি তিন আসামি হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। তাদের গুলিতে শহীদ হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই চারজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।
