বিকেলের ভূমিকম্পের উৎপত্তি টঙ্গীর কাছাকাছি, মাত্রা ছিল ৪
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | ২২:৫২ | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | ২২:৫৬
রাজধানী ঢাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪। গত শুক্রবারের পর থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ দফা ভূমিকম্প অনুভূত হলো। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ভূমিকম্প-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির গণমাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পটি স্বল্পমাত্রার। ঢাকা থেকে ৩৬ কিলোমিটার ও টঙ্গী থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। তবে তৎক্ষণাৎ সুনির্দিষ্টভাবে উৎপত্তিস্থল জানাতে পারেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এর আগে বিকেলে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল নিয়ে রুবাইয়াত কবির জানিয়েছিলেন, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। উৎপত্তি নরসিংদীর ঘোড়াশালে। তবে পরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে উৎপত্তিস্থল টঙ্গীর কাছাকাছি ও এর মাত্রা ৪ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গত শুক্র ও শনিবার প্রায় ৩১ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকা ও এর আশপাশে চারবার ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎস ছিল নরসিংদীর মাধবদী। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। গত শুক্রবারের ভূমিকম্পে ১০ জন নিহত ও ছয় শতাধিক আহত হয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী সরকার বলেন, ঢাকার কাছাকাছি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল অস্বাভাবিক বলা যাবে না। এর আগেও হয়েছে। বড় একটা ভূমিকম্প আসার কয়েক বছর আগে থেকে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়। ছোট ভূমিকম্পগুলো বড় ভূমিকম্প যেখানে হবে, সেখানে না হয়ে অন্য জায়গা বা তার আশপাশে হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্প এড়ানো হয়তো সম্ভব নয়, তবে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভবনের মান পরীক্ষা, ঝুঁকির ভিত্তিতে সেগুলোকে আলাদা করে ফেলা এবং নাগরিককে সতর্ক করার পাশাপাশি নিয়মিত মহড়ার আয়োজন করা যেতে পারে।
- বিষয় :
- ভূমিকম্প
- আবহাওয়া অধিদপ্তর
- টঙ্গী
