কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য
হাসানুল হক ইনু ছিলেন হামলার নির্দেশদাতা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় প্রত্যক্ষ নির্দেশদাতা ও উস্কানিদাতা ছিলেন জাসদ সভাপতি সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। গতকাল সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ প্রথম সাক্ষী মো. রাইসুল হক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। এর পর এ মামলায় প্রসিকিউশনের জব্দ তালিকার সাক্ষী প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা জবানবন্দি দেন। পরে শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়। ইনুর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।
জবানবন্দিতে রাইসুল হক বলেন, ‘গত বছরের ৪ আগস্ট সকাল ১১টায় আমরা কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের সামনে তিন-চারশজন একত্রিত হই। যখন আমরা শহরের মজমপুরের দিকে যাই, তখন চার-পাঁচশ ছাত্র-জনতা আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। এর পর আমরা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার সম্মুখীন হই। তার পরও আন্দোলন সফল করি। ওইদিন আমাদের ওপর ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে সরাসরি নির্দেশ ও উস্কানি দেন কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা।
রাইসুল হক বলেন, ‘৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি সফল করতে সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের সামনে একত্রিত হই। এখান থেকে আমরা প্রায় পাঁচ-ছয় হাজার ছাত্র-জনতা মিছিল বের করি। যখন আমরা মজমপুরের দিকে যাই, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ওপর টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে; আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের ওপর হামলা চালায়। তার পরও আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাই।’
তিনি বলেন, পরে কুষ্টিয়া বক চত্বরের দিক থেকে ছয় রাস্তার মোড় পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন। সেখানেও পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। দুপুরের পর বক চত্বরের পাশে বাবু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিনই বক চত্বরের আশপাশে সুরুজ আলী বাবু, বাবুল ফরাজী, আব্দুল্লাহ মুস্তাকিন, উসামাসহ মোট ছয়জন শহীদ হন।
এ সাক্ষী আরও বলেন, আমরা ৫ আগস্টের পর সামাজিক মাধ্যমে দেখেছি– শেখ হাসিনাকে ফোনকলের মাধ্যমে হাসানুল হক ইনু আন্দোলনকারীদের দমনের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে আন্দোলনকারীদের গুলি করা, বম্বিং করা, যে কোনো মূল্যে আন্দোলন দমনের পরামর্শ ও উস্কানি দেন।
- বিষয় :
- নির্দেশনা
