ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
অধ্যাদেশ জারি করলেই সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি
সায়েন্সল্যাব মোড়ে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের অবরোধ
ঢাকার সাত কলেজ নিয়ে গঠিত ‘সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়’ বাতিলের দাবিতে গতকাল সোমবার রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেট এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। আধঘণ্টা পরে পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয় সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫৯ | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকার সাত কলেজের অন্যতম প্রধান অংশীদার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মতামত ও দাবি উপেক্ষা করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করলে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের সব সরকারি কলেজ ও দপ্তরে অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন শুরু করা হবে। গতকাল সোমবার সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা কমিটি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে, ঢাকা কলেজের স্বাতন্ত্র্য ও অস্তিত্ব রক্ষা এবং প্রস্তাবিত স্কুলিং মডেল বাতিলের দাবিতে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সায়েন্সল্যাব মোড়ে জড়ো হয়ে তারা অবরোধ শুরু করেন। এক ঘণ্টা ধরে চলা এ অবরোধে এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ আইনের খসড়ায় থাকা স্কুলিং মডেলের মাধ্যমে সাত কলেজ— বিশেষ করে ঢাকা কলেজের অনার্স, মাস্টার্স এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের অস্তিত্ব সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের দাবিতে, মডেলটি সাত কলেজের বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ; অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মতামত উপেক্ষা করেই প্রণয়ন করা হয়েছে।
অবরোধে আটকে থাকা জনসাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হন। মিরপুর সড়ক, নীলক্ষেত-নিউমার্কেট, ধানমন্ডিমুখী সব সড়কেই যানবাহন দীর্ঘসময় স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সাত কলেজের দীর্ঘ ইতিহাস, স্বকীয়তা ও সুনাম নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর অধীনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শত বছরের শিক্ষা-ঐতিহ্য রক্ষায় তারা রাজপথে নেমেছেন। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘোষণার দাবি জানিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন। সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও বাতিল করা হয়।
তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজায় সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা কমিটির সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা’ বাক্যাংশটি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কাঠামো বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা সাত কলেজ ইস্যুকে আরও জটিল করবে।
রাষ্ট্রের মাথাপিছু ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বঞ্চিত। সাত কলেজসহ দেশের সব সরকারি কলেজ শিক্ষার্থীর জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ বৃদ্ধি, আবাসন পরিবহন সুবিধা, শিক্ষক সংকট ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে জরুরি উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে শিক্ষকদের দাবি তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছুদের শ্রেণি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার স্বার্থে প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর সর্বস্তরে স্থায়ীভাবে কেবল বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। সংবাদ সম্মেলন থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেগুলো হলো– আজ গণজমায়েত (সময়- সকাল ১০টা। স্থান– মাউশি প্রাঙ্গণ), ৩ ডিসেম্বর দেশের সব সরকারি কলেজে মানববন্ধন, ৪ ডিসেম্বর পরীক্ষা বন্ধসহ সাত কলেজে সর্বাত্মক কর্মবিরতি, ৬ ডিসেম্বর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সব সদস্যের অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহাসমাবেশ। যদি ঢাকার সাত কলেজের অন্যতম প্রধান অংশীদার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মতামত ও দাবি উপেক্ষা করে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়, তবে দেশের সব সরকারি কলেজ ও দপ্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু হবে।
