অধ্যাদেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুপক্ষ মুখোমুখি, সড়ক অবরোধ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির খসড়া অধ্যাদেশের স্কুলিং মডেল, হাইব্রিড সিস্টেম বাতিল ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের যোগ্য সব কর্মকর্তার পদোন্নতি নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন, ইডেন কলেজ ইউনিট। গতকাল বুধবার কল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৮ | আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:৫০
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫-এর চূড়ান্ত অধ্যাদেশের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার দুপক্ষের মিছিল, অবস্থান, স্লোগান ও সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা কলেজ ও আশপাশের এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মিরপুর সড়কসহ আশপাশের সড়কগুলোয় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা কলেজ থেকে মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট, আজিমপুর হয়ে ফিরে কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করেন সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তিন দফা আলোচনা হলেও প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ এখনও জারি হয়নি। এতে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী পরিচয় সংকট ও একাডেমিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা সড়ক ছেড়ে দেন।
অন্যদিকে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে সহশিক্ষা চালুর বিরোধিতা এবং কলেজের স্বতন্ত্রতা রক্ষাসহ পাঁচ দাবিতে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আজিমপুর ও নীলক্ষেত সড়ক অবরোধ করেন।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মো. নাঈম হাওলাদার সমকালকে বলেন, আমাদের লক্ষ্য এখন শুধুই অধ্যাদেশ। কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ঝুঁকির মুখে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাত কলেজের পরিচয় সংকট, প্রশাসনিক কাঠামো, একাডেমিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাবর্ষের সেশন স্থিতিশীলতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীসহ চলমান সব বর্ষের প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী বর্তমানে এই অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না। প্রায় দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ শেষে ঢাকা কলেজের সামনে সংবাদ সম্মেলনে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা দাবি মানতে আগামী শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। এর মধ্যে অধ্যাদেশ জারি না হলে রোববার থেকে শিক্ষা ভবনের সামনে অনির্দিষ্টকাল অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাত কলেজকে নিয়ে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া থমকে আছে। অধ্যাদেশ ছাড়া পরিস্থিতি শুধু জটিল হচ্ছে।
ইডেন কলেজ শিক্ষার্থীদের ৫ দাবি
ইডেন কলেজ ছাত্রীদের পাঁচ দফা দাবি হলো– ইডেনকে শুধু নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা। কোনো বিভাগ বিলুপ্ত না করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়সূচি ২৪ ঘণ্টা বহাল রাখা। ইডেনকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখা, ইন্টারমিডিয়েট চালু না করা এবং কেবল একটি ফ্যাকাল্টিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাতিল করা। তাদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে ইডেনের ঐতিহ্য, নারীবান্ধব পরিবেশ ও স্বতন্ত্র মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দুপুরে তারা মিছিল নিয়ে ঢাকা কলেজে গিয়ে অধ্যাদেশবিরোধী ক্যাম্পে যোগ দেন।
ঢাকা কলেজে মুখোমুখি দুই পক্ষ
ইডেন কলেজের মিছিল ঢাকা কলেজে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। অধ্যাদেশের পক্ষে থাকা সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন।
বিপক্ষে থাকা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মাঠে নামেন। দুপুরের পর থেকে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাস ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কলেজের মূল ফটকের সামনে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করা শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। অন্যদিকে স্নাতকের শিক্ষার্থীরা কলেজের বাইরে অবস্থান নেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে দুই পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। নিউমার্কেট থানার ওসি একেএম মাহফুজুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গত ১২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি নতুন স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
