এস আলমসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
জনতা ব্যাংকের দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২৩:১৪
আলোচিত ব্যবসায়ী এল আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমসহ (এস আলম) ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঋণের নামে জনতা ব্যাংকের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা করা হয়।
রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরামুল হক বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গ্লোবাল ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল আলম, পরিচালক ফারজানা বেগম, মোহাম্মদ আবদুস ছবুর, সোনালী ট্রেডার্সের মালিক শহিদুল আলম, এস আলম ট্রেডিংয়ের পরিচালক ওসমান গণি, এন এন ইন্সপেকশন সার্ভিসেসের ম্যানেজিং পার্টনার খন্দকার রবিউল হক, কমোডিটি ইন্সপেকশন সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার জহিরুল হক। মামলায় জনতা ব্যাংকের সাবেক এমডি, ডিএমডি, জিএমসহ সাবেক ও বর্তমান অনেক কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যাংকের চট্টগ্রামের সাধারণ বীমা ভবন করপোরেট শাখার সাবেক মহাব্যবস্থাপক কামরুল আহছান, মাসফিউল বারী, কামরুজ্জামান খান, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক সিরাজুল করিম মজুমদার প্রমুখ।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা যোগসাজশে বেআইনিভাবে ঋণের সীমা অনুমোদন, ঋণের শর্ত লঙ্ঘন এবং অতিরিক্ত ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড দায় তৈরি করেছেন। আসামিরা ব্যাংকিং বিধি ও অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে ঋণের সীমা অনুমোদন ও নবায়ন করেছেন। মার্জিন মানি সংগ্রহ না করেই এলটিআর (লেটার অব ট্রাস্ট রিসিপ্ট) ইস্যু করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রাস্ট রিসিপ্টের জন্য আলাদা চার্জ ডকুমেন্ট খোলা হয়নি এবং আমদানিকৃত পণ্য আসলেই দেশে পৌঁছেছে কিনা, তা যাচাই করা হয়নি। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকটির বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড– উভয় ক্ষেত্রেই এসব অনিয়ম করা হয়েছে। এর মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত এলটিআর দায় সৃষ্টি এবং নির্ধারিত সময়ে অর্থ জমা না দেওয়ার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত। এসব কর্মকাণ্ড পরিকল্পিত জালিয়াতি। ২০১০ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে গত বছরের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সুদাসলে মোট ১ হাজার ৯৬৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
