ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গবেষণা প্রতিবেদন

তামাকে বছরে ক্ষতি ৮৭ হাজার কোটি টাকা

বিদ্যালয়ের পাশেই ৫টির বেশি তামাকের দোকান

তামাকে বছরে ক্ষতি ৮৭ হাজার কোটি টাকা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে তামাক খাত থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ তার দ্বিগুণের বেশি। 
২০২৪ সালে তামাকজনিত এই ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অথচ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তামাক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকস এই গবেষণা পরিচালনা করে।
অনুষ্ঠানে পিপিআরসির করা আরেকটি গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, দেশে প্রতিটি বিদ্যালয়ের চারপাশে গড়ে ৫টির বেশি তামাক বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এমনকি বিদ্যালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যেই আছে 

তামাকের ৬৬৬টি দোকান। প্রায় সব দোকানেই এক শলাকা সিগারেট বিক্রি হয়, যা শিশুদের কাছে তামাককে সহজলভ্য করে তুলছে। পিপিআরসির এই গবেষণায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনার ১২১টি বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
দুই গবেষণাতেই দেখা গেছে, তামাকের ক্ষতি এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় বিদ্যমান আইন দ্রুত হালনাগাদ করা এখন সময়ের দাবি।
পিপিআরসির গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৮৪ শতাংশ দোকানে সুগন্ধিযুক্ত বা ফ্লেভার্ড সিগারেট পাওয়া যায়; আর ৭১ শতাংশ দোকান খোলা অবস্থায় সিগারেট প্রদর্শন করে, সেটিও শিশুদের চোখের সমতলে। ৬৬ শতাংশ দোকানে তামাকজাত পণ্য রাখা হয় চকলেট, মিষ্টি বা খেলনার পাশে, যা শিশুদের মনে তামাককে ‘স্বাভাবিক’ পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে। পাশাপাশি ৬৮ শতাংশ পয়েন্ট অব সেলে দৃশ্যমান বিজ্ঞাপনও পাওয়া গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের করা গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে আর্থিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ৭৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। পরিবেশগত ক্ষতি ১৪ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা।
গবেষণাটি জানায়, তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব প্রাপ্তি এই বিশাল ক্ষতির তুলনায় অনেক কম, অর্থাৎ প্রকৃত খরচ বহন করছে জনগণই।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, নতুন এই প্রমাণ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত সংশোধনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। 

বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. শারমিন ইয়াসমিন বলেন, শিশুরা যেভাবে প্রতিদিন তামাকের মুখোমুখি হচ্ছে, এটি তাদের সুস্থতার জন্য সরাসরি হুমকি।
টেগোর ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ আর্টসের সহযোগী অধ্যাপক সিকদার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের সামনে সিগারেটের সহজ উপস্থিতি শিশুদের কাছে ধূমপানকে স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও পিপিআরসি নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, তামাক একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। প্রমাণভিত্তিক ও কৌশলগত প্রচেষ্টা ছাড়া এটি মোকাবিলা সম্ভব নয়। শক্তিশালী আইন, কার্যকর কর কাঠামো এবং বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনার ওপর জোর দেন তিনি। 

গবেষণা প্রতিবেদনে পয়েন্ট অব সেলে 
তামাক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা, এক শলাকা সিগারেট বিক্রি বন্ধ, সুগন্ধিযুক্ত সিগারেট নিষিদ্ধ, আইন বাস্তবায়ন জোরদার, স্কুল এলাকার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়।

 

আরও পড়ুন

×