ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ঢাকার বাইরে ৫ বছরে সর্বোচ্চ

ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ঢাকার বাইরে ৫ বছরে সর্বোচ্চ
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বছরের শেষ দিন গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ জন। এ নিয়ে ২০২৫ সালে দেশে এডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১। তাদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ রোগী ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তের এই হার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গতকাল ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে কারও মৃত্যু হয়নি। এতে গত বছরে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৪, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকার হাসপাতালগুলোতে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি ২৬২ জন, যা মোট মৃত্যুর ৬৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সারাদেশে মৃত্যুর ৪৪ শতাংশের বয়স ১৬ থেকে ৩৫ বছর। একই বয়সের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৪৯ শতাংশ রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত রোগীর তথ্য সংগ্রহ করছে। এই তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়, যার মধ্যে ঢাকার বাইরে সংক্রমণের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে হাসপাতাল ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল এক লাখ এক হাজার ২১ এবং ঢাকার বাইরে ছিল ৬০ শতাংশ। ২০২২ সালে রোগী ছিল ৬২ হাজার ৩৮২ জন, যেখানে ঢাকার বাইরে ৩৭ শতাংশ। ২০২১ সালে রোগী ছিল ২৮ হাজার ৪২৯ জন, ঢাকার বাইরে ১৭ শতাংশ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও মশাবাহিত রোগ গবেষক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ডেঙ্গু মূলত শহরমুখী রোগ হলেও এখন এটি উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে। এডিস মশা বাস, লঞ্চ, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে যাচ্ছে। যেখানে তারা উপযুক্ত প্রজনন ক্ষেত্র পায়, সেখানে বংশবিস্তার শুরু করে। তাই প্রতি বছর ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

ড. কবিরুল আরও বলেন, গ্রামগুলো এখন আগের মতো নেই, প্রায় সবই নগরায়িত হয়েছে। যখন ব্যাপক নগরায়ণ ঘটে এবং নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ ব্যবস্থা থাকে না, তখন মানুষ পানি সংরক্ষণের জন্য বালতি, টব, ড্রাম ইত্যাদি পাত্র ব্যবহার করে। এই জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, ২০২৫ সালে ঢাকার বাইরে রোগীর প্রায় ৬৯ শতাংশই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এটি একটি অশনিসংকেত। ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়া এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর সক্ষমতা এখনও গড়ে ওঠেনি। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মশা নিধন কার্যক্রম নেই, বাজেটও বরাদ্দ হয়নি। ফলে আগামীতে গ্রামে গ্রামে ডেঙ্গু রোগী বাড়বে এবং এতে মৃত্যুর হারও বাড়তে পারে। যদি সময় মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, আগামী ৩০-৪০ বছরের মধ্যেও মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।
ডা. বে-নজীর আরও বলেন, মশা আপন মনে বেড়ে চলেছে। আগে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা কিছু উদ্যোগ নিতেন, এখন তা নেই। অপরিকল্পিতভাবে নতুন শহর গড়ে ওঠায় নতুন প্রজনন ক্ষেত্রও বাড়ছে। যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, শুধু ঢাকার বাইরে নয়, পুরো দেশে ডেঙ্গু আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

আরও পড়ুন

×