ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ জারি

নিষিদ্ধ গাছ কাটলে এক লাখ টাকা জরিমানা

অনুমতি ছাড়া গাছ কাটলে জরিমানা ৫০ হাজার, পেরেক লাগালে ২০ হাজার টাকা

নিষিদ্ধ গাছ কাটলে এক লাখ টাকা জরিমানা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫২ | আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

তালিকাভুক্ত নিষিদ্ধ প্রজাতির গাছ বা বন অধিদপ্তর ঘোষিত বিপদাপন্ন কোনো গাছ কাটলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা হবে। ধাতব বস্তু বা পেরেক ব্যবহার করে গাছের ক্ষতি করলে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার আওতায় আসবে। এসব বিধান রেখে গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট জারি করা হয়।

রাষ্ট্রপতির জারি করা গেজেটে বলা হয়, আদালত চাইলে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নেরও নির্দেশ দিতে পারবেন। এর পাশাপাশি অনুমতি নিয়েও ভুল নিয়মে গাছ কাটলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বনের জমি এখন থেকে জেলা প্রশাসক ইজারা দিতে পারবেন না।

অধ্যাদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ– কারা অনুমতি ছাড়া গাছ কাটতে পারবেন না এবং কোন পরিস্থিতিতে আগাম অনুমতি প্রয়োজন হবে না। সরকারি বন, অশ্রেণিভুক্ত বন, সামাজিক বন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সম্পত্তিতে গাছ কাটতে হলে বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমতি আবশ্যক। ব্যক্তিমালিকানার জমিতেও এ নিয়ম প্রযোজ্য, যদি গাছটি অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য তালিকায় থাকে।

তবে অধ্যাদেশে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। রোগাক্রান্ত বা মৃত গাছ, ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছ, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিগ্রস্ত গাছ বা জীবন-সম্পদের ঝুঁকি তৈরি করা গাছ কাটতে আগাম অনুমতি লাগবে না। গ্রামীণ এলাকায় ব্যবহৃত সাধারণ বাণিজ্যিক প্রজাতির গাছ কাটায়ও অনুমোদন প্রয়োজন হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে আবার পুরো প্রক্রিয়া চলবে বিদ্যমান ‘চট্টগ্রাম হিলট্র্যাকস রেগুলেশন, ১৯৯০’-এর অধীনে। সেখানে কাটা গাছের বিপরীতে একই এলাকায় সমসংখ্যক চারা রোপণ বাধ্যতামূলক।

বনভূমির রেকর্ড-সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলো এ অধ্যাদেশের বড় অংশজুড়ে আছে। গেজেটভুক্ত সব বনভূমি এখন বন বিভাগের নামে রেকর্ড করতে হবে। রক্ষিত ও অর্জিত বন জেলা প্রশাসকের নামে থাকলেও ব্যবস্থাপনা দেখবে বন বিভাগ। বনভূমি বন্দোবস্ত দেওয়ার সুযোগও বন্ধ করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ ও জরিপকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত জট দূর হয়।

বনভূমি বিনিময় ও অধিগ্রহণেও নতুন শর্ত যোগ হয়েছে। কোনো শিল্প এলাকার ভেতরে এক একরের কম বিচ্ছিন্ন বনভূমি থাকলে জনস্বার্থ বিবেচনায় বিনিময়ের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে, তবে শর্ত হলো– দ্বিগুণ পরিমাণ নিষ্কণ্টক বনসংলগ্ন জমি বন বিভাগকে হস্তান্তর করতে হবে। সরকার সেটিকে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করবে। বনের অখণ্ডতা রক্ষায় সরকার চাইলে বনাঞ্চলের ভেতরের খাসজমিও বন বিভাগের অনুকূলে দিতে পারবে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করে বন ঘোষণা করার সুযোগ রাখা হলেও পার্বত্য অঞ্চল ও নৃগোষ্ঠীর এলাকার ভূমি অধিকার নিষ্পত্তির বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই অধ্যাদেশকে যুগান্তকারী অভিহিত করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, নতুন অধ্যাদেশ বনসম্পদ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে পরিবেশগত নিরাপত্তা জোরদার হবে।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, অধ্যাদেশের ফলে গণপরিসর ও ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গাছ রক্ষায় বন বিভাগ পদক্ষেপ নিতে পারবে। 

প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএনের সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশতিয়াক আহমদ বলেন, খসড়া তৈরির প্রায় ১৪ বছর পর এটি অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করেছে সরকার। এই অধ্যাদেশে বনভূমি ইজারা দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হবে।

আরও পড়ুন

×