ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

ইসিতে শুনানির প্রথম দিনে ৭০ জনের আপিল নিষ্পত্তি

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হামিদুর রহমান আযাদ, তাসনিম জারা

৫২টি মঞ্জুর, ১৫টি নামঞ্জুর, তিনটি বিবেচনাধীন

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হামিদুর রহমান আযাদ, তাসনিম জারা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া বাতিল-গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শুনানির প্রথম দিনে গতকাল ৭০টি আপিল নিষ্পত্তি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ৫২টি আবেদন মঞ্জুর, ১৫টি নামঞ্জুর এবং তিনটি বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। 

মঞ্জুর করা ৫২টি আবেদনের মধ্যে বাতিলের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হয়েছে ৫১টি। অর্থাৎ, ইসিতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বাছাইয়ে বাদ পড়া ৫১ জন। তাদের মধ্যে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা ডা. তাসনিম জারা রয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির ১২ জনসহ বেশির ভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। 

বাকি একটি আপিল মঞ্জুর হয়েছে মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এ কে একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুর হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া নামঞ্জুর হওয়া ১৫টি আপিলের মধ্যে দুই আপিলকারী শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের আপিল বাতিল করে দেয় ইসি। 
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে দুই দফায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল শুনানি চলে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে চার নির্বাচন কমিশনার যোগ দেন। এ সময় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ও আইন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে ব্রিফিংয়ে আখতার আহমেদ বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। 
প্রথম দিন আপিল নম্বরের ক্রম অনুযায়ী ১ থেকে ৭০টি আপিলের শুনানি চলে। এতে প্রার্থী অথবা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আসা আইনজীবীরা নিজ নিজ আপিলের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে রায় ঘোষণা করেন সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনাররা। 

গত সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন গ্রহণ চলে নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে আপিল কেন্দ্রে। অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথে পাঁচ দিনে মোট ৬৪৫টি আপিল জমা পড়ে। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইকালে দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে এক হাজার ৮৪২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

আযাদ ও জারার মনোনয়নপত্র বৈধ
গত ২ জানুয়ারি মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র প্রথমে স্থগিত ও পরে বাতিল হয়। ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে তথ্যে গরমিল থাকায় তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। কমিশনের যাচাই করা ১০ ভোটারের মধ্যে দুজন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার না হওয়ায় জারার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আযাদ ও জারা পরে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে আপিল করেন। প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে জারা সাংবাদিকদের জানান, তাঁর পছন্দের প্রতীক ফুটবল। এই প্রতীক বরাদ্দের জন্য আবেদন করবেন তিনি। 
এ ছাড়া শুনানি শেষে মাদারীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামী বক্তা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারীর মনোনয়নপত্র পুনর্বহাল হয়। ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা। 

জাতীয় পার্টির ১২ প্রার্থী বৈধ 
জাতীয় পার্টির ১২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। তারা হচ্ছেন– গাজীপুর-৫ আসনের সফিউদ্দিন সরকার, চাঁদপুর-১ হাবীব খান, নরসিংদী-১ মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ছালাউদ্দিন খোকা, ঝালকাঠি-১ কামরুজ্জামান খান, শরীয়তপুর-৩ আবদুল হান্নান, মাগুরা-২ আসনে মশিয়ার রহমান, নড়াইল-২ আসনে খন্দকার খালেকুজ্জামান, খুলনা-৫ শামীম আরা পারভীন, কুড়িগ্রাম-২ পনির উদ্দিন আহমদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ খুরশীদ আলম এবং গাজীপুর-১ শফিকুল ইসলাম। 
এদিন নিজ দলের প্রার্থীদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আপিলের শুনানিতে অংশ নেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মবের দৌরাত্ম্য সুষ্ঠু ভোটের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসিকে মব দমন করতে হবে। তা না করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আরও যাদের আপিল মঞ্জুর
ময়মনসিংহ-৭ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমানের মামলার তথ্য গোপনের বিষয়ে শুনানি শেষে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফেনী-১ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৪ স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীন রেজা চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৫ স্বতন্ত্র শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-১ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, নেত্রকোনা-৪ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার, পঞ্চগড়-১ জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির আল রাশেদ প্রধান, নরসিংদী-৫ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মশিউর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৪ স্বতন্ত্র কাজী রেহা কবির, হবিগঞ্জ-৪ এবি পার্টির মোকাম্মেল হোসেন, গাইবান্ধা-১ স্বতন্ত্র মোস্তফা মহসিন, হবিগঞ্জ-১ জাসদের কাজী তোফায়েল আহম্মেদ, বগুড়া-৬ বাসদের দিলরুবা, নরসিংদী-২ ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইব্রাহীম, দিনাজপুর-৬ স্বতন্ত্র শাহনেওয়াজ ফিরোজ, ঢাকা-১৮ বাসদের সৈয়দ হারুন অর রশীদ, গোপালগঞ্জ-২ স্বতন্ত্র কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, রংপুর-৪ স্বতন্ত্র শাহ আলম বাসার, শরীয়তপুর-১ স্বতন্ত্র গোলাম মোস্তফা, শরীয়তপুর-১ স্বতন্ত্র সৈয়দ নজরুল ইসলাম, গাজীপুর-৩ ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি শামীম আহমেদ, টাঙ্গাইল-১ স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আলী, শরীয়তপুর-১ বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নূর মোহাম্মদ মিয়া, ফরিদপুর-৪ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মিজানুর রহমান।, গাজীপুর-২ স্বতন্ত্র সালাউদ্দিন সরকার, গাজীপুর-৫ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রহুল আমিন।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন, পটুয়াখালী-৩ স্বতন্ত্র মিজানুর রহমান বাবুর মনোনয়নপত্র এবং যশোর-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামানের আপিল আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে। এই তিনজনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ফের শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সময় দিয়েছে ইসি। 

আরও পড়ুন

×