ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নাগরিক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে রিজওয়ানা

এমনভাবে ভোট দেবেন, যাতে ভবিষ্যতে পস্তাতে না হয়

এমনভাবে ভোট দেবেন, যাতে ভবিষ্যতে পস্তাতে না হয়
×

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নাগরিক পদক-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০৮

ক্ষমতার ভার জনগণের দিকে রাখতে চাইলে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, সংস্কার শুধু কথায় নয়, ভোটের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করতে হবে। সত্যিই সংস্কার চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। এমনভাবে ভোট দেবেন, যাতে ভবিষ্যতে পস্তাতে না হয়। আমরা যেন ভালো নেতা দেখে ভোট দিই।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে গতকাল রোববার ডিএনসিসি নগরভবনে আয়োজিত নাগরিক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে নাগরিক পদক দেওয়া হয়।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন নাগরিকদের দুটি ভোট দিতে হবে। একটি সংসদ নির্বাচনে, অন্যটি গণভোটে। সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেওয়া হচ্ছে, সে সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আফসোস না করতে হয়। একই দিন অনুষ্ঠিত গণভোটটি দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে বড় সিদ্ধান্ত হয়ে থাকবে। যদি সত্যিই সংস্কার চান, তাহলে সেই সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। নিষ্ক্রিয় থাকলে বা স্পষ্ট মত না দিলে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা আরও বহু বছরের জন্য হারিয়ে যেতে পারে।

গণভোটের প্রস্তাবনাগুলো সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নোট ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো পড়তে হবে, বুঝতে হবে এবং তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু স্বৈরাচার চলে গেলেই শেষ না। আগেও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন হয়েছে। গণতন্ত্র আসতে নাগরিকদের সচেতন হতে হয়। আমাদের অনেক ভয়ভীতি আসবে, যাতে ভোট দিতে না যাই। কয়েকটি ঘটনাও ইতোমধ্যে ঘটেছে। ভয়কে জয় করাই আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, আমরা যদি আবারও গুম-নির্যাতনের দিকে যেতে না চাই, তাহলে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। জুলাই শহীদরা এই দেশই চেয়েছে, যেখানে বৈষম্য থাকবে না। আধিপত্যবাদের কাছে দেশ আর মাথানত করবে না। 

অনুষ্ঠানে গবেষক সলিমুল্লাহ খান বলেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনকে বলা হয়েছিল যুগান্তকারী। এটা আসলে যুগান্তকারী পরিবর্তন হয়নি। আজও একই যুগ চলছে কিনা, সেটা আপনারা বিচার করবেন। যদি সে তার উদ্দেশ্য সাধন করতে চায়, তাহলে তাকে বলতে হবে ১৯৭১-এর যে অঙ্গীকার ছিল মানবিক মর্যাদা, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার– সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেই নিজের স্বার্থ সাধন করতে হবে। সেটাকে বিয়োগ করে নয়। আগামীতে যে গণভোট হতে যাচ্ছে, সেটাতে ৫ আগস্টের আগে না ফেরার অঙ্গীকার রয়েছে। দেশে বৈষম্যের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। 

অনুষ্ঠানের অতিথিরা পদকপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন। পরিবেশ রক্ষা ক্যাটেগরিতে ভাসানটেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উদ্ভাবক ক্যাটেগরিতে আব্দুর রশিদ সোহাগ, সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণ ক্যাটেগরিতে আপলিফট বাংলাদেশ, অ্যাডভোকেসি ক্যাটেগরিতে কড়াইল বস্তির বাসিন্দা হাওয়া বেগম, প্রাণী সুরক্ষা ও প্রাণী অধিকার রক্ষা ক্যাটেগরিতে ‘প ফাউন্ডেশন’, সামাজিক সংগঠন ক্যাটেগরিতে উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরি, ব্যক্তি উদ্যোগ ক্যাটেগরিতে শ্রুতি রানী দে এবং সর্বোচ্চ করদাতা ক্যাটেগরিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নাগরিক পদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

আরও পড়ুন

×