ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২৬৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা

জোট ছেড়ে নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন

জামায়াত শরিয়াহ আইনে রাজি না হওয়ায় সমঝোতা হচ্ছে না: মুখপাত্র

জোট ছেড়ে নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২১ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

পছন্দের আসনে ছাড় না পেয়ে নানা নাটকীয়তার পর জামায়াতে ইসলামীর জোট ছেড়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছে। তবে দলটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে জানিয়েছে, ইসলামের মৌলিক নীতির প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক আস্থাহীনতায় ১১ দলীয় সমঝোতায় থাকছে না।

আসন সমঝোতা নিয়ে গত কয়েক দিনের টানাপোড়েনের পর গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।

সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে একসঙ্গে এসেছিল জামায়াত, ইসলামী আন্দোলসহ ৮ দল। এর পর জোটবদ্ধ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়।

কিন্তু আসন বণ্টনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। ইসলামী  আন্দোলন অন্তত ৫০ আসন চেয়েছিল। জামায়াত ৪৫ আসন ছাড়তে রাজি হয়। তবে পঞ্চগড়-২, রংপুর-১, ৩, ও ৬, কুড়িগ্রাম-৩, গাইবান্ধা-২, রাজশাহী-২, খুলনা-৩, বরিশাল-৪, ময়মনসিংহ-১০, ঢাকা-৫, ঢাকা-১১ সহ যেসব আসন চরমোনাই পীরের দলের অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল, সেগুলো জামায়াত না ছাড়ায় তারা জোট ছাড়ল।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন সূত্র সমকালকে এসব তথ্য জানালেও গাজী আতাউর দাবি করেছেন, আসন সংখ্যা নয়, সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার কারণ আদর্শিক। তিনি বলেন, ‘শরিয়াহ আইনে দেশ চলবে কিনা– এমন প্রশ্নে জামায়াতের আমির বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনে দেশ শাসন করবেন। অথচ বিদ্যমান আইন পরিবর্তনই ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতি। সমঝোতার প্রধান দল যদি বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনার প্রতিজ্ঞা করে, তবে শঙ্কিত হই। ইসলামী আন্দোলন নীতির রাজনীতি করে। মৌলিক প্রশ্নে যখন ভিন্ন মত তৈরি হয়, তখন সমঝোতায় থাকার সুযোগ নেই।’

সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার তৈরি ঐক্যের পাটাতনে কাজ করতে চান। জাতীয় সরকার গঠন করতে চান। এই বক্তব্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে আতাউর রহমান বলেছেন, এর ফলে পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন বাস্তবতায় জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় থাকা সমীচীন মনে করছে না ইসলামী আন্দোলন।

তিনি বলেন, চরমোনাই পীর ইসলামের পক্ষে সমঝোতার নীতি নিয়েছিলেন। কিন্তু জামায়াতের প্রাধান্যে যে সমঝোতা গড়ে উঠেছে, তা আর ইসলামের পক্ষের সমঝোতা থাকছে না।  একই সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্যও পরিষ্কার নয়।

ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৪ আসন খালি রেখে গত বৃহস্পতিবার রাতে জামায়াত, এনসিপিসহ ১০ দল নির্বাচনী ঐক্যের ঘোষণা দেয়। তবে পরদিনই পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিল ইসলামী আন্দোলন।

আতাউর রহমান বলেন, ২৬৮টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা কাজ করছেন। একজনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। বাকি ৩২টি আসনে যেসব প্রার্থীর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের নীতি-আদর্শের মিল রয়েছে, তাদের সমর্থন দেওয়া হবে।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইসলামপন্থি শক্তির সামনে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। তা কাজে লাগিয়ে ইনসাফ কায়েমে চরমোনাই পীর ইসলামপন্থিদের ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ দিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে, ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই পলিসিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এনসিপি, এলডিপি, এবি পার্টির মতো দলগুলো সমঝোতায় যোগ হওয়ার পর ইসলামপন্থিদের এক বাক্স নীতি ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ করেন আতাউর রহমান। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, আহমদ আবদুল কাইয়ুম প্রমুখ।

 

আরও পড়ুন

×