ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হামলার শিকার মাজারগুলোর পুনঃসংস্কার ও ক্ষতিপূরণ ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান

১২ রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠিয়েছে মাকাম

হামলার শিকার মাজারগুলোর পুনঃসংস্কার ও ক্ষতিপূরণ ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:৩৩

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর গত ১৬ মাসে সারাদেশে অন্তত ১১৩টি মাজার ও এ সম্পর্কিত স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এসব হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে মাকাম। এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার বা ইশতেহারে হামলার শিকার মাজারগুলোর পুনঃসংস্কার ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে তারা। সম্প্রতি এক বিবৃতি এ দাবি জানায় মাকাম।

দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান অপরিহার্য বলেও মনে করে সংগঠনটি।

তাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একাধিকবার মুখে কঠোর ব্যবস্থার কথা বললেও বাস্তবে তার কার্যকর কোনো প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি। ফলে হামলার শিকার অধিকাংশ মাজার এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে মাজার সংশ্লিষ্ট পরিবার ও অনুসারীরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। 

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে সুফি সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুফি সাধক ও দরবেশদের হাত ধরেই এই ভূখণ্ডে ইসলামের মানবিক, সহনশীল ও বহুত্ববাদী চর্চা বিকশিত হয়েছে। ফলে দেশের বিপুল সংখ্যক নাগরিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুফি সমাজের সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সুফি সমাজ ও মাজার সংস্কৃতির ওপর নজিরবিহীন হামলার কারণে এই জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে।

তারা জানায়, এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে উক্ত বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে মাকাম ১২টি রাজনৈতিক দলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠি প্রাপ্ত রাজনৈতিক দলগুলো হলো—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণসংহতি আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি।

মাকাম আশা করছে, রাজনৈতিক দলগুলো জনস্বার্থ ও সামগ্রিক জাতীয় স্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। 

আরও পড়ুন

×