ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

আজিজ খান ও তার পরিবারের সদস্যসহ ১৬ জনকে দুদকে তলব

আজিজ খান ও তার পরিবারের সদস্যসহ ১৬ জনকে দুদকে তলব
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:০৭

অর্থ পাচার করে বিদেশে সম্পদ অর্জন ও দেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাদেরকে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা পাচার ও দেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওইসব অভিযোগ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হবে।

যাদেরকে তলব করা হয়েছে তাদের মধ্যে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খান, মেয়ে আয়েশা আজিজ খন্দকার, ভাই ও সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খানকে ২৯ জানুয়ারি, আজিজ খানের মেয়ে আজিজা আজিজ খান, আদিবা আজিজ খান ও ভাই মোহাম্মদ ফরিদ খানকে ১ ফেব্রুয়ারি, আজিজ খানের ভাই জাফর উদ্দিন খান, মোহাম্মদ লতিফ খান, ভাইয়ের ছেলে মোহাম্মদ ফয়সাল করিম খানকে ২ ফেব্রুয়ারি, আজিজ খানের পরিবারের সদস্য সালমান খান, সানাদিনা খান, আজহারুল হক খানকে ৩ ফেব্রুয়ারি এবং ফারহান খালেদ খান, ফারহান করিম খান ও ফাদিয়াহ খালেদা খানকে ৪ ফেব্রুয়ারি ডাকা হয়েছে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, আজিজ খানের নামে ৩৩০ কোটি ৯৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি দেশে অর্জিত অর্থ সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে পাচার করেছেন। সিঙ্গাপুরের প্রথম সারির ধনীদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। আয়কর নথিতে তিনি খুবই স্বল্প সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে তিনি দেশে নেই। জানা গেছে, আজিজ খান বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। 

তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খানের নামে স্থাবর, অস্থাবরসহ মোট ৯২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। তিনি আয়কর নথিতে স্থাবর সম্পদের যে মূল্য প্রদর্শন করেছেন, প্রকৃত মূল্য তার চেয়ে অনেক বেশি হবে। ওই সম্পদ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনিও দেশে অর্জিত অর্থ সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে পাচার করে ওই দেশেরে ধনীদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। স্বামীর মতো আয়কর নথিতে তিনিও খুবই অল্প পরিমাণ সম্পদ প্রদর্শন করেছেন। মেয়ে আয়েশা আজিজ খানের নামে ৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকার স্থাবর ও ২৭৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। তিনি আয়কর নথিতে স্থাবর সম্পদের খুবই কম মূল্য উল্লেখ করেছেন। তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ তার চেয়ে অনেক বেশি। তিনিও সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে অর্থ পাচার করে ওইসব দেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

আরও পড়ুন

×