ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পুলিশ হেফাজতে জনি হত্যার এক যুগ

‘আইনের সীমাবদ্ধতা’ নিয়ে আদালতে যাবে পরিবার

‘আইনের সীমাবদ্ধতা’ নিয়ে আদালতে যাবে পরিবার
×

ইশতিয়াক হোসেন জনি

ইন্দ্রজিৎ সরকার

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০:৩৩ | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪০

রাজধানীর পল্লবীতে পুলিশ হেফাজতে ইশতিয়াক হোসেন জনি হত্যা মামলার রায় নিয়ে নতুন করে ভাবছে ভুক্তভোগী পরিবার। তারা বলছে, নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে সীমাবদ্ধতা থাকায় পুলিশের সোর্স মো. রাসেল খালাস পেয়েছেন। সেইসঙ্গে আপিলের রায়ে তৎকালীন এএসআই রাশেদুল হাসানের যাবজ্জীবন দণ্ড কমিয়ে ১০ বছর করায় তারা অসন্তুষ্ট। আর আদালত নির্দেশ দেওয়ার পরও তারা ক্ষতিপূরণ পাননি। তাই তারা এসব বিষয় নিয়ে শিগগিরই আপিল করবেন।

এক যুগ আগে ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পল্লবী–১১ নম্বর সেকশনের ইরানি ক্যাম্পে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে গাড়িচালক জনি ও তার ভাই রকিকে আটক করে পুলিশ। তাদের পল্লবী থানায় নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারি জনির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রকি বাদী হয়ে ওই বছরের ৭ আগস্ট মামলা করেন। এটি ছিল হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে করা প্রথম মামলা। 

এ মামলায় সর্বশেষ গত বছরের ১১ আগস্ট আপিলের রায়ে পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদুর রহমান ও এএসআই মো. কামরুজ্জামানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে আরেক আসামি এএসআই রাশেদুল হাসানের যাবজ্জীবন দণ্ড কমিয়ে ১০ বছর এবং সোর্স রাসেলকে সাত বছরের সাজা থেকে খালাস দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ লিগাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তা করছে। মামলা পরিচালনায় যুক্ত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবাল সমকালকে বলেন, বাদী মনে করছেন, দুই আসামির অপরাধের তুলনায় লঘুদণ্ড হয়ে গেছে। তাই তিনি আপিল করতে চান। আমরা এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর মধ্যে সোর্স রাসেলকে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটা আইনি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছিলেন বিচারক। রায়ে তিনি বলেছিলেন, হেফাজতে (মৃত্যু) নিবারণ আইনে মূলত তাদের বিচারের সুযোগ রয়েছে, যারা হেফাজতে নিতে পারেন। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রাসেল তো বাহিনীর কেউ নন। এই বিষয়টিও আমরা আপিলে উল্লেখ করব। তখন আপিল বিভাগ প্রয়োজন মনে করলে আইনে সংশোধনী আনার বিষয়ে ভাবতে পারে।

এর আগে ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জনি হত্যা মামলায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন প্রতিবেদন জমা দেন। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এ মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস এ মামলার রায় দেন। এতে তিন পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন এবং দুই সোর্স সুমন ও রাসেলকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে দণ্ডিত প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তাকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়। তবে আসামিপক্ষ আপিল করে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে গত বছরের আগস্টে আপিলের রায় ঘোষণা হয়।

নিহতের ছোট ভাই ও মামলার বাদী ইমতিয়াজ হোসেন রকি বলেন, দণ্ডিত এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ ও এএসআই রাশেদুল হাসান কারাগারে এবং এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু পলাতক। আর দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সোর্স রাসেল গ্রেপ্তার হলেও পরে খালাস পেয়েছেন। পলাতক মিন্টু ও রাসেল আমার বিরুদ্ধে নানারকম ষড়যন্ত্র করছেন, ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। সোর্স সুমনও সাজা শেষে মুক্তি পেয়েছেন। এতে আমি পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

তিনি জানান, তার মা খুরশিদা বেগম ছেলে হারানোর শোকে বয়সের তুলনায় বেশি বুড়িয়ে গেছেন। সারাবছর তিনি নানারকম রোগে ভোগেন। সর্বশেষ ছোট ছেলের (রকি) নিরাপত্তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

আরও পড়ুন

×