সুজনের পর্যবেক্ষণ
তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশ করে হাত মুছে নিয়েছে ইসি
বিজয়ী সংসদ সদস্যের ৯১ শতাংশই কোটিপতি
বদিউল আলম মজুমদার
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো তদন্ত করেনি। গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করে হাত মুছে নিয়েছে ইসি।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুজন আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সুজন সম্পাদক বলেন, সহিংসতার শঙ্কা থাকলেও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে অযোগ্যরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে ফলাফলের সমীকরণ বদলে যায়। তখন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এখনও সুযোগ আছে। আরপিওর ৯১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি হলফনামা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে, কোনো অভিযোগ ওঠে, তাহলে গেজেট প্রকাশের পরও এটা তদন্ত করে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তারা নির্বাচনও বাতিল দিতে পারবে।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ছিল। তারা আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। আবার অনেক দ্বৈত নাগরিক প্রয়োজনীয় নথি না দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন। এসব বিষয়ে তদন্ত করে তারপর গেজেট প্রকাশ করতে কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছিল। নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুষ্ঠু হয়েছে কি না, সেটি ‘সার্টিফাই’ করারও সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটা পালন করেনি। এখন তারা অনেকটা পোস্ট অফিসের ভূমিকায়। চিঠি আসলো, স্ট্যাম্প দিয়ে পাঠিয়ে দিলো!
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য একরাম হোসেন।
জয়ী এমপির ৯১ শতাংশই কোটিপতি
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনে জয়ী ২৯৭ এমপির মধ্যে ২৭১ জনের সম্পদ কোটি টাকার বেশি। কোটিপতি এমপির এই হার মোট বিজয়ী প্রার্থীর ৯১ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক ১৮৭ জন। যা বিজয়ী প্রার্থীর ৬২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
এতে আরও বলা হয়, বিএনপি থেকে নির্বাচিত ২০৯ এমপির মধ্যে ২০১ জনই কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। যা দলটির মোট বিজয়ী প্রার্থীর ৯৬ দশমিক ১৭ শতাংশ । জামায়াতের ৬৮ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ৫২ জন, তথা ৭৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
সুজনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে নবনির্বাচিতদের মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীর মধ্যে কোটিপতির হার ছিল ৫৫.৬৩ শতাংশ। পক্ষান্তরে স্বল্প সম্পদের মালিকদের (২৫ লাখ টাকার কম) নির্বাচিত হওয়ার হার প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনায় কম। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে স্বল্প সম্পদের মালিকদের হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। সম্পদের ঘর পূরণ না করা ৫৮ জনসহ এই হার ছিল ২১.৫৭ শতাংশ।
এছাড়া শীর্ষ ১০ উপার্জনকারীর মধ্যে নয়জনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। একইসঙ্গে শীর্ষ আয়কর দেওয়া প্রথম ১০ জনও দলটির সংসদ সদস্য।
ঋণগ্রহীতার হার বেড়েছে
সুজনের তথ্যে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে জয়ী ২৯৭ সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৪৭ জনই ঋণ গ্রহীতা, যা মোট বিজয়ী প্রার্থীর ৪৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ঋণ গ্রহীতার মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৩৬ জন (২৪.৪৮ শতাংশ)। সর্বোচ্চ ১২৬ জন (৮৫.৭১ শতাংশ) ঋণ গ্রহীতা বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
এতে বলা হয়, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এই নির্বাচনে ঋণগ্রহীতার হার বেড়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ।
সুজনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত এমপির মধ্যে ১৮২ জনই পেশায় ব্যবসায়ী। এই হার বিজয়ী প্রার্থীর ৬১ দশমিক ২৮ শতাংশ। বাকিরা বিভিন্ন পেশায় জড়িত। আর জয়ী এমপির মধ্যে বিএনপির ১৪৬, জামায়াতের ২৪ এবং এনসিপির তিনজনের পেশা ব্যবসা।
এছাড়া নির্বাচিত এমপির মধ্যে ১৪২ জনের বিরুদ্ধে (৪৭ দশমিক ৮১ শতাংশ) বিভিন্ন মামলা রয়েছে। মামলার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন বিএনপির এমপিরা (৫০ দশমিক ২৪ শতাংশ)। পরের অবস্থান জামায়াতের এমপিদের (৪৭ দশমিক ০৭ শতাংশ)।
- বিষয় :
- বদিউল আলম মজুমদার
