ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মে থেকে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ শিগগির খাল খনন

মে থেকে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ  শিগগির খাল খনন
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিবছর পাঁচ কোটি করে বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। ১৮০ দিনের মধ্যে কর্মসূচির আওতায় আগামী মে মাসে শুরু করা হবে এই বৃক্ষরোপণ। পাশাপাশি সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচিও শুরু করবে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কর্মকৌশল নির্ধারণ ও নির্দেশিকা প্রণয়নে গতকাল প্রধানমন্ত্রী আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সভায় বসেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, অর্থ ও পরিকল্পনা; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; ভূমি, কৃষি, পানি মন্ত্রণালয়সহ ১২ মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দুজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাডভাইজরি কমিটির বিশেষ সহকারী ও স্কুল অব রিলিজিওন অ্যান্ড সোসাইটি, অসলো, নরওয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইমুম পারভেজ। 

সভা প্রসঙ্গে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘প্রতিবছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। মে মাসে শুরু হবে এ কার্যক্রম। এ বছর হয়তো পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ সম্ভব হবে না। তবে আগামী বছর এই ঘাটতি পূরণ করা হবে। গাছের চারা সংগ্রহে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি নার্সারিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এখন আমাদের বিভিন্ন বিভাগে যেখানে যেখানে চারা আছে, কৃষি বিভাগে কিছু আছে, বন বিভাগে কিছু আছে, বেসরকারি নার্সারিতেও আছে। সব মিলিয়ে যত পাওয়া যায়, আমরা লাগানোর চেষ্টা করব।’
কর্মসূচি মে মাসে শুরু করার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই রোপণ শুরু করতে হবে। জুলাইয়ের পর সাধারণত চারা রোপণের উপযুক্ত সময় থাকে না। গাছ লাগানোর স্থান সম্পর্কে তিনি জানান, নদীর চর ও দুই তীর, বাঁধ, সড়কের ধারে, পার্বত্যাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং লবণাক্ত পানিপ্রবণ অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বনায়ন এমন সাত থেকে আটটি নির্ধারিত ব্যবস্থার আওতায় রোপণ কার্যক্রম চালানো হবে।

এদিকে খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এই কর্মসূচিকে একটি বিপ্লবে পরিণত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে থেকে বারবার উল্লেখ করেছেন, খাল পুনর্খননের মাধ্যমে মানুষ যেন সুবিধা পায়। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে স্থানীয় সরকার, পানি, দুর্যোগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় বসে ঠিক করবে কবে নাগাদ এটি শুরু হবে। শুরু হবে খুব শিগগির।’ ১৮০ দিনের মধ্যে এই কাজের বেশির ভাগ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ খ ম গোলাম সারওয়ার বলেন, এখন প্রকৃতির যে অবস্থা, যত খরাসহিষ্ণু গাছই লাগানো হোক না কেন, ঠিকমতো যত্ন নিতে না পারলে নিশ্চিত থাকতে পারেন, শতভাগ গাছ মারা যাবে। তবে বর্ষার শুরু অথবা শেষের দিকের সময়টায় গাছ লাগানোর ভালো। 

আরও পড়ুন

×