পরীক্ষা করা হবে মশক নিধন ওষুধের কার্যকারিতা
আজ পরিদর্শনে যাবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৫:১২
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ব্যবহৃত মশক নিধন ওষুধ কার্যকারিতা হারিয়েছে— দীর্ঘদিনের এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মজুত ও ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা সরেজমিন যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ জন্য আজ বুধবার সরেজমিন পরিদর্শনে যাবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিদ।
গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সভাকক্ষে আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব খুরশেদ আলম।
বৈঠকের শুরুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যে কোনো মূল্যে মশামুক্ত ঢাকা গড়ে তুলতে হবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণকে সচেতন করাও এ উদ্যোগের অংশ।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে— সিটি করপোরেশনের ছিটানো ওষুধে মশা মারা যাচ্ছে না। তাই ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করা জরুরি। এ লক্ষ্যে সকালে নগর ভবন এবং মিরপুরের একটি স্টল পরিদর্শন করবেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। আকাশপথে ওষুধ ছিটানোর বিষয়টি আলোচনায় এলেও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কায় আপাতত সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। বৈঠকে পাওয়া সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মশক নিধন কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। গত সেপ্টেম্বরেও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ওষুধ কেনার আগে সরকারি তিনটি পরীক্ষাগারে তা পরীক্ষা করা হয়। মানহীন ওষুধ ব্যবহারের প্রশ্নই ওঠে না। তবে গুলশান ও বনানীর কিছু বাড়িতে কর্মীদের প্রবেশ করতে না দেওয়ায় ওষুধ ছিটানো সম্ভব হয় না।
তিনি বলেন, বড় চ্যালেঞ্জ হলো খাল ও ড্রেনে লার্ভা ধ্বংস করা। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ১০০ কর্মী ওষুধ ছিটানোর কাজে নিয়োজিত আছেন। কিন্তু এক এলাকায় অভিযান চালালে পাশের এলাকা থেকে আবার মশার বিস্তার ঘটে। একযোগে পুরো ঢাকায় অভিযান চালানো গেলে ফল আরও ভালো হতে পারে।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার বলেন, মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে ওষুধের সক্রিয় উপাদান কার্যকর আছে কিনা, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সঠিকভাবে ধ্বংস করতে হবে। মশা ও ডেঙ্গু রোগীর বিস্তৃতি জানতে জরিপ পরিচালনা জরুরি। যেসব বাড়িতে ওষুধ ছিটানো হয়, সেসব বাড়ির মালিক বা কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ এবং কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
- বিষয় :
- মশক নিধন
