ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংসদ নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রশ্নাতীত বলা কঠিন: সুজন

সংসদ নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রশ্নাতীত বলা কঠিন: সুজন
×

জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুজন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৫:২০ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৫:২১

অভিযুক্ত ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রকাশ্য অংশগ্রহণকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটি বলেছে, এবারের সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে আংশিক বিতর্কমুক্ত বলা যায়, তবে এটিকে সম্পূর্ণ প্রশ্নাতীত বলা কঠিন। 

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুজন আয়োজিত ‘সুজনের দৃষ্টিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। 

সুজন সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এবারের নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও জনগণ ভোট দিতে পেরেছে। নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে। সর্বোপরি সব দল নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছে। যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সেগুলো তদন্ত করা। নির্বাচনের পরও এটা করার সুযোগ আছে। এই কমিশনের মেয়াদকালে এটি সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী।

বিএনপির সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিএনপির আইনি বাধ্যবাধকতা আছে। কেননা জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জনগণ অনুমোদন করেছে। একই সঙ্গে গণভোটে সংস্কারের ৪৮টি বিষয় অনুমোদিত হয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে তারা বলেছে, পরিপূর্ণভাবে সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে সুজনের পক্ষে ৬৪ জেলার ৬৪টি নির্বাচনী এলাকা বাছাই করা হয়। প্রশিক্ষিত পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হয়। 

সুজনের পর্যবেক্ষণ

সুজনের প্রতিবেদনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দুই ভোটের বিষয়ে সার্বিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলা হয়, প্রায় দুই ডজন অভিযুক্ত ঋণখেলাপি ও বেশ কয়েকজনের দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের দালিলিক প্রমাণ না থাকার পরও অবাধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারা এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতা। অন্তত ৪৫ ঋণখেলাপি প্রার্থী, কোনো ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এই তালিকায় বিএনপির ৪১ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর চার প্রার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত ঋণখেলাপিদের মধ্যে ১১ জন জয়ী হয়েছেন। যাদের সবাই বিএনপি জোটের প্রার্থী। 

এতে বলা হয়, অনেক প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের পার করে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। 

সুজন বলেছে, দীর্ঘ সময় পর তুলনামূলক অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন গণতান্ত্রিক বৈধতা বাড়িয়েছে। তবে কয়েকটি স্থানে সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সহিংসতা, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। প্রশাসন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলেও কিছু অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সুজনের পর্যবেক্ষণে ৯টি মানদণ্ডে এবারের নির্বাচনকে মূল্যায়ন করা হয়। এতে বলা হয়, নির্বাচনে আইনি কাঠামোর সঠিকতার লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ আমলে নেওয়া হয়নি। তবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মানদণ্ডে নির্বাচন সন্তোষজনক বলা যায়। আবার ভোট গ্রহণ শেষে গণনা ও ফল ঘোষণার মানদণ্ডে নির্বাচন কাঙ্ক্ষিত মানের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারেনি। 

দ্বিদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভ্যুদয়কে এবারের নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য আউটকাম (ফল) বলে মনে করছে সুজন। পর্যবেক্ষণে তারা বলেছে, এই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত জোট সম্মিলিতভাবে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট কুড়াতে এবং যৌথভাবে ২৮৯ আসনে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য ইতিবাচক। 

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, বিজয়ী দলের নেতার পরাজিত দলের নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পরাজিত দলের বিজয়ীদের অভিনন্দন জানানো নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার পূর্বাভাস বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার প্রশ্নে বিজয়ী ও পরাজিতদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ এবং ১১ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জন নতুন শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে।

আরও পড়ুন

×