ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বহুমাত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যয়ে শুরু অমর একুশে বইমেলা

বহুমাত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যয়ে শুরু অমর একুশে বইমেলা
×

সংবাদ সম্মেলনে অমর একুশে বইমেলার বিস্তারিত তুলে ধরেন সদস্যসচিব ড. মো. সেলিম রেজা। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৭:৫২

মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে সাহিত্য-সংস্কৃতির মিলনমেলা অমর একুশে বইমেলা-২০২৬। এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে বাংলা অ্যাকাডেমির জনসংযোগ বিভাগের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তুলে ধরেন সদস্যসচিব ড. মো. সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম এবং পরিচালক সরকার আমিন।

বাংলা একাডেমি আয়োজিত বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় আজ দুপুরে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আয়োজকদের প্রত্যাশা- জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বই ও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এবারের আয়োজন সব সম্ভাবনায় আলোকিত হবে।

এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশ নিচ্ছে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান। মোট ইউনিট সংখ্যা ১০১৮টি। গত বছর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১০৮৪টি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় স্থাপন করা হয়েছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনের জন্য স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে অংশ নিচ্ছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট সংখ্যা ১০৭টি। শিশুদের অবাধ বিচরণ ও সহজে বই সংগ্রহের সুবিধার্থে শিশুচত্বরকে উদ্যানের মাঝামাঝি স্থানে রাখা হয়েছে।

মেলার সামগ্রিক বিন্যাস আগের বছরের মতো থাকলেও কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে বাহিরপথ স্থানান্তর করে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এলাকায় মোট চারটি প্রবেশ ও বাহিরপথ থাকবে। খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে সুবিন্যস্তভাবে স্থাপন করা হয়েছে।

মেলায় নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা অব্যাহত থাকবে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মুসল্লিদের জন্য তারাবি নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাংলা একাডেমি এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে; সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। বাংলা অ্যাকাডেমির বই ও পত্রপত্রিকার বিক্রয় স্টল থাকবে মেলার উভয় অংশেই।

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে শিশুপ্রহর আয়োজন করা হবে। এছাড়া শিশুকিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যা ব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। পুরো এলাকায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মেলাপ্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, ধূলি নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো এবং মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এবারের বইমেলাকে পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্টল, ব্যানার, লিফলেট ও খাবারের দোকানসহ সব আয়োজনে পুনর্বহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে গুণগত মানের ভিত্তিতে প্রকাশককে প্রদান করা হবে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’। শৈল্পিক মানে সেরা বইয়ের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান পাবে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। শিশুতোষ গ্রন্থে বিশেষ অবদানের জন্য থাকবে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’। স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’।

এছাড়া এবছর নতুনভাবে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’। নতুন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে গুণগত মানের বিচারে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অনুযায়ী এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বইমেলা চলবে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর নতুন করে প্রবেশ করা যাবে না। ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

 এবারের অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর ব্যবস্থাপনা সহযোগী হিসেবে রয়েছে বর্তমান বাংলা লিমিটেড।

প্রকাশক, লেখক ও পাঠকের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এই আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই বইপ্রেমীদের মাঝে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।

আরও পড়ুন

×