ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদে নৌপথের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে নানা উদ্যোগ

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী ও মালপত্র বহন নিষিদ্ধ

ঈদে নৌপথের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে নানা উদ্যোগ
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০০:০০

নৌপথে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এবার ঘরমুখী যাত্রীর কাছ থেকে যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়, সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি করা হবে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালপত্র বহন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ছাদে যাত্রী বহনের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিতকরণে প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ঈদ ঘিরে নৌপথে যাত্রীর চাপ বহু গুণ বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে নৌপথে ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। যাত্রীর নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। 

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদে নৌপথের যাত্রীর জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা দেশের সব নদীবন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানে দৃশ্যমান রাখতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অতিরিক্ত যাত্রী ও মালপত্র বহনের প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট নৌযানের রুট পারমিট, লাইসেন্স বাতিলসহ মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও স্পিডবোট ঘাটে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হবে।

সভায় জানানো হয়, ঈদে নৌ-দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগামী ১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত দিনে-রাতে সার্বক্ষণিক বালুবাহী বাল্কহেড ও ডিঙি নৌকা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। রাতে স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ এবং দিনে স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৭ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখা হবে। 

একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নৌপথে ফিটনেসহীন নৌযান ও ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সব নৌযানকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নদীর মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানো বন্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ করে রাতে টহল জোরদার করা হবে।

যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারে ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত প্রতিটি লঞ্চে ন্যূনতম চারজন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিটি ঘাট এলাকায় ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হবে। পাশাপাশি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে তদারক দল গঠন করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে ঢাকা ও গাজীপুর মহানগর এলাকায় গার্মেন্ট ও নিটওয়্যার খাতের শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। যাতে একযোগে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সৃষ্টি না হয়। 

১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত যানজটমুক্ত রাখতে ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, যাত্রী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। 

সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও দপ্তরকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে সভায় নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। 

সভায় সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, নৌপরিবহন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসন, পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×