ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া-লোকসান ৭৬ হাজার কোটি টাকা

বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া-লোকসান  ৭৬ হাজার কোটি টাকা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুৎ খাতে সার্বিক ঘাটতি প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা ৩৬ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন সরকারি কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান ৪০ হাজার কোটি টাকা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে অর্থ বিভাগের কাছে এই অর্থ চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে নিজ দপ্তরে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন। এরপর ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে, সেখানে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না; কিন্তু বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হচ্ছে। পুরোই হযবরল। সার্বিক বিষয়গুলো অর্থ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকেও বিস্তারিতভাবে অবগত করা হবে। কারণ এ খাতটি অনেক সংবেদনশীল। প্রধানমন্ত্রীর সব কিছু জানা থাকা উচিত।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, বৈঠকে বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক বিষয় অর্থ উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু তারা নতুন এসেছেন, তাদের তো সব কিছু জানাতে হবে। 

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমরা লোডশেডিং রেখে গিয়েছিলাম সত্য; কিন্তু জাতির কাঁধে বোঝা রেখে যাইনি। এখন বাতি জ্বলে ঠিকই; কিন্তু জাতির কাঁধে বোঝা অনেক। আমি মনে করি, ঋণে ডুবে থাকার চেয়ে কষ্ট করে থাকা ভালো। 
টুকু বলেন, আমার সময় (এর আগে বিএনপি সরকারের সময়) বিদ্যুতে সিস্টেমলস ছিল ৬ শতাংশ। ১৯ বছর পরে এসে দেখছি ১০ শতাংশ হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য। এটা করা গেলে লোকসান কমে আসবে। এতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া আমরা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে ভাবছি, যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আগে যখন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম, ২০০৪ সালে নীতিমালা করেছিলাম, তাতে বলা ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশীদারিত্ব থাকবে ৩৫ শতাংশ, আর সরকারি থাকবে ৬৫ শতাংশ। পরবর্তী সরকার এটা মানেনি। এখন বেসরকারি অংশ হয়ে গেছে ৮২ শতাংশ। যে কারণে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা জনগণের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে গেছে। এত টাকার দায়, ম্যানেজ করা কঠিন। এই পরিস্থিতিতেও আমরা বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারছি না। 
টুকু বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে রাষ্ট্র ঋণের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকে এবং সাধারণ জনগণ সরাসরি উপকৃত হয়। তবে রাতারাতি সবকিছু ঠিক করা সম্ভব নয়। এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। 

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছি। রিগ কেনা হবে, সেখানে দক্ষ জনবল দরকার। সে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এ জন্য সময় দিতে হবে। কোয়ালিটি গ্যাস সরবরাহ আশা করা কঠিন, গ্যাস নেই আমি কী করব। গরম যত বেশি আসবে, গ্যাসের চাপ কমবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
গ্যাস নেই– অথচ আবাসিক গ্রাহকের কাছ থেকে পুরো বিল আদায় করা হচ্ছে কেন– এ প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, মিটার নিলে এ সমস্যা থাকে না। আমরা সবাইকে মিটার দেব। 
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী দাবি করেন, একাধিক তদন্ত বা কমিশন গঠন করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার চরিত্র হনন করা হয়েছে। 
ভারতের আদানির বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একটি প্রতিবেদন দিয়ে গেছে। এখানে অনেক বিষয় উঠে এসেছে। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করছি। মন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের প্রতিটি স্তরে সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন

×