সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জোর
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যব্যয়ের চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্য খাতে মানবসম্পদের ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নীতিনির্ধারক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ ও সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের জন্য কার্যকর অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি’ শীর্ষক এক নীতিগত সংলাপে এসব বিষয় উঠে আসে। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ রোড টু ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ: নিউ ডায়ালগ সিরিজ ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ইউএইচসি ফোরামের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সহায়তা করে ইউনিসেফ।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি নিশ্চিত করা এবং সংস্কার বাস্তবায়নে বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা কমানোর প্রয়োজন রয়েছে।
সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গঠনের কাজ চলছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও বিস্তৃত করতে সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে ৮০ হাজারই নারী স্বাস্থ্যকর্মী হবেন।
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতে অনেক উদ্যোগই দুর্নীতির কারণে বাস্তবায়ন হয়নি। তাই সঠিক তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বড় ধরনের দুর্নীতির ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
হাসপাতালে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিও সেবা পাওয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকার। নির্বাচনী অঙ্গীকারে এমন অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে গবেষক ও নীতি বিশ্লেষকেরা তুলে ধরছেন।
সংলাপে এক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কামাল আজাদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, ক্রয় ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং বিপুলসংখ্যক শূন্য পদ দ্রুত পূরণের ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে অসংক্রামক রোগের বাড়তে থাকা চাপ, পুষ্টিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর জরুরি।
সংলাপে ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা উন্নত করা এবং গবেষণালব্ধ প্রমাণকে কার্যকরভাবে নীতিনির্ধারণে ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সমাপনী বক্তব্যে পিপিআরসির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার এগিয়ে নিতে সরকার, গবেষক ও নীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে সমতা নিশ্চিত করা, পুষ্টি ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তিনি বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। কেবল অর্থায়ন বাড়ালেই হবে না, মানুষকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যত্নশীল মানসিকতার বিকাশও প্রয়োজন।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্যসেবা
