ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইচ্ছেমতো অফিসে আসা-যাওয়া

নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইচ্ছেমতো অফিসে আসা-যাওয়া
×

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৮ মিনিটেও সদর উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায়

আনোয়ার হোসেন মিন্টু, জামালপুর 

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

জামালপুরে সরকারি নির্দেশনা মানছেন না অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। সকাল ৯টার মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনেকেই মনগড়া সময়ে অফিসে আসা-যাওয়া করছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে অনেককেই কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো কর্মকর্তার অফিসের তালা খোলা হয় সাড়ে ৯টা থেকে ১০টায়।

সকাল ১০টা ৮ মিনিটে জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে কম্পিউটার অপারেটর মাজহারুল ইসলাম ও জুনিয়র পরিসংখ্যান সহকারী রিফাত আরা ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা রুপালী আক্তার ১১টা পর্যন্ত অফিসে আসেননি। অভিযোগ রয়েছে, বেশির ভাগ কর্ম দিবসেই তিনি কর্মস্থলে আসেন না। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি জেলা অফিসে আছেন। তাঁর ভাষ্য, তাদের কাজ মাঠে, তাই তাঁকে বেশির ভাগ সময় অফিসে পাওয়া যাবে না। ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলক অফিসে থাকার ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনার কথা স্মরণ করালে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

৯টা ৩৮ মিনিটে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সহকারী পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। এই অফিসে কর্মকর্তার সংখ্যা ৫ জন। বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অফিসপ্রধান আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যরা অফিসে আসেননি। অফিসপ্রধানের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিসিভ করেননি।

সকাল ১০টার দিকে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সাবেরী শারমিনের অফিসে গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। অফিসটির দরজা সর্বশেষ কবে খোলা হয়েছে তা বলতে পারেন না পাশের অফিসের কেউ। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় দুই মাস ধরে অফিসে আসেন না। তবে ছুটির কোনো লিখিত আবেদনও নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
৯টা ১৫ মিনিটে উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৩ জনকে পাওয়া যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক অফিসে ঢোকেন ৯টা ১৯ মিনিটে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেরিতে অফিসে আসার ব্যপারে তিনি বলেন, এটি পুরোনো অভ্যাস। তাই পরিবর্তন হতে সময় লাগবে।

বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড অফিসে গিয়ে অফিস সহকারী শামছুল আলম সাজু ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক আগমনের খবর দেওয়ার অন্তত ২০ মিনিট পর অফিসের গেস্ট রুম থেকে বেরিয়ে আসেন উপপরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি জানান, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এই জেলায় যোগদান করেন তিনি। আসার পর থেকেই বিনা ভাড়ায় এই গেস্টরুমেই থাকছেন। অফিসের গেস্টরুমে নিয়মিত থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি কিশোরগঞ্জ। আমি যেখানেই চাকরি করি সেখানেই কর্ম দিবসের ভাড়া দিয়ে গেস্টরুমেই থাকি। তবে এখানে এসে এখনও ভাড়া দিইনি। তবে আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যেই সব ভাড়া জমা দেব।’

৯টা ২০ মিনিটে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফের ৯টা ৫০ মিনিটে গিয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেনসহ ১১ জনকে পাওয়া যায়। অফিসপ্রধান বলেন, অনুপস্থিত ইউনিয়ন সমাজকর্মী ফেরদৌসি বেগম ও নাজমা বেগম ৯টার সময় ব্যাংকে কিস্তির টাকা জমা দিতে গেছেন। কিন্তু ব্যাংক খোলার সময়তো ৯টা ৩০ মিনিটে, এই কথার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ওই কর্মকর্তা। 

১০টা ২০ মিনিটে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনসহ ৪ কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। অফিসের হিসাব সহকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর বাবু বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় তিনি মাঝেমধ্যে আসেন। 

সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে আসেন দেরিতে আবার চলে যান অফিস সময়ের আগেই। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না তারা।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিমের ভাষ্য, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় অফিসে যান। সেখানে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনও অফিসে আসেন দেরিতে আর অফিস সময়ের আগেই বেরিয়ে যান। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে উপস্থিত থাকার বিধান রয়েছে। ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিসে বাধ্যতামূলক উপস্থিত থাকতে হবে। সরকারি নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×