ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টেকসই উপকূলীয় মৎস্যচাষের অগ্রগতি তুলে ধরলো এএবিএস

টেকসই উপকূলীয় মৎস্যচাষের অগ্রগতি তুলে ধরলো এএবিএস
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ০৫:৫০

এশিয়া-আফ্রিকা ব্লুটেক সুপারহাইওয়ে (এএবিএস) প্রকল্প রোববার ঢাকায় ‘বাংলাদেশে সমন্বিত বহুস্তরীয় মৎস্যচাষ গবেষণার ফলাফল বিনিময়’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করেছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, একাডেমিয়া, বেসরকারি খাতের মৎস্য বিশেষজ্ঞ, এনজিও এবং উপকূলীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিসহ অর্ধশতাধিক মানুষ অংশ নেন। তারা পাইলট কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন, শিক্ষা গ্রহণ এবং বাংলাদেশে ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিট্রপিক অ্যাকুয়াকালচার (আইএমটিএ) সম্প্রসারণের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা করেন।

যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের ব্লু প্ল্যানেট ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত এএবিএস প্রকল্প বাংলাদেশসহ আফ্রিকার চারটি দেশে টেকসই মৎস্যচাষ উন্নয়নে কাজ করছে।
 
আইএমটিএ পদ্ধতিতে চিংড়ি ও মাছের মতো খাদ্যনির্ভর প্রজাতির সঙ্গে শৈবাল ও জলজ প্রাণীকে একত্রে চাষ করা হয়, যা পানির গুণগত মান উন্নত করার পাশাপাশি চাষিদের আয় বাড়াতে সহায়তা করে।

বাংলাদেশে এএবিএস খুলনা, কক্সবাজার, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও সাতক্ষীরা জেলায় আইএমটিএ পাইলট কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রজাতি নির্ধারণ, পুকুরভিত্তিক পরীক্ষা, খাদ্য উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ এবং বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও সহনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় খুলনা ও কক্সবাজারে পরিচালিত আইএমটিএ পাইলটের গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল উপস্থাপন করা হয় এবং টেকসই উপকূলীয় মৎস্যচাষ সম্প্রসারণে বাস্তবসম্মত কৌশল নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক ও খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে আইএমটিএ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা আরও সুদৃঢ় করা হয়।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) এর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র চাষিদের সহায়তায় গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। 

মৎস্য অধিদপ্তর বাংলাদেশ এর মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী টেকসইভাবে আইএমটিএ সম্প্রসারণে নীতি ও নিয়ন্ত্রক অগ্রাধিকার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তাদের বক্তব্য টেকসই মৎস্যচাষ ব্যবস্থার উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে।

ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফারুক উল ইসলাম উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ওয়ার্ল্ডফিশের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড.বিনয় কুমার বর্মন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক জনাব অশোক কুমার সরকার।

এশিয়া-আফ্রিকা ব্লুটেক সুপারহাইওয়ে (এএবিএস) একটি ওয়ার্ল্ডফিশ নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ, যা যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের ব্লু প্ল্যানেট ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত। এর লক্ষ্য এশিয়া ও আফ্রিকায় জলজ খাদ্য ব্যবস্থাকে টেকসইভাবে রূপান্তর করা—যেখানে উদ্ভাবনী ও জলবায়ু-স্মার্ট সমাধান সম্প্রসারণের মাধ্যমে জীবিকায়ন উন্নয়ন, টেকসইতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

আরও পড়ুন

×