ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী

আদানির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সালিশি আদালতে যাওয়ার চিন্তা সরকারের

আদানির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সালিশি আদালতে যাওয়ার চিন্তা সরকারের
×

সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:০৮ | আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:২৬

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক মূল্যে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থসহ চুক্তি সংশোধন সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (চট্টগ্রাম-১৫) শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী এ কথা জানান। এর আগে বিকাল সাড়ে তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খন্ড) লিমিডেটের সঙ্গে ২০১৭ সালে সাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি পর্যালোচনার জন্য একটি জাতীয় কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়েছে। চুক্তিটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক মূল্যে স্বাক্ষর করেছে বলে জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। 

ওই প্রতিবেদনের আলোকে চুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হওয়া অথবা আদানি পাওয়ারের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তি সংশোধন ইত্যাদি বিষয় সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই: ঢাকা-১৮ আসনের এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। তবে, গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে ও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।

কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজা আহাম্মদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট।

ফেনী-২ আসনের জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৬টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির অধীনে এক হাজার ৮৩৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া ১৩৯টি নতুন উপকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ চলছে। এর মধ্যে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ হতে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×