ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছিলেন মা, খাটের ওপর ছেলের গলাকাটা লাশ

গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছিলেন মা, খাটের ওপর ছেলের গলাকাটা লাশ
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া এলাকার বাসা থেকে এক নারী ও তাঁর সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন– নার্গিস আক্তার (৩৫) ও মো. মাহিম (৬)। গতকাল শুক্রবার বিকেলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছিলেন মা, আর খাটের ওপর ছিল ছেলের গলাকাটা লাশ।

খিলগাঁও থানার ওসি শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তখন পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসায় ছিলেন না। প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর ওই নারী আত্মহত্যা করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, তিলপাপাড়ার তারাবাগের ২ নম্বর গলির ১৫১ নম্বর বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন নার্গিস। তাঁর স্বামী মো. সাবু পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। তাদের তিন ছেলে। সবার ছোট ছিল হত্যার শিকার মাহিম। গতকাল দুপুরে সাবু ও তাঁর বড় দুই ছেলে বাসায় ছিলেন না। তাই কীভাবে  ঘটনাটি ঘটেছে তা জানা যায়নি। বিকেলে এক প্রতিবেশী নার্গিসকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে প্রতিবেশীরা পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার 
করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, কী কারণে এ ঘটনা ঘটে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলে আসছিল। এর জের ধরে আত্মহত্যা করার আগে শিশুটিকে হত্যা করে থাকতে পারেন নার্গিস। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলমান।
এ ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীর বাসা থেকে এক দম্পতি ও তাদের দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে অটোরকিশাচালক মো. মাসুমের নিথর দেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল। আর বিছানায় ছিল তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি, তাদের চার বছরের ছেলে মিনহাজ ও দুই বছরের ছেলে আসহাবের মরদেহ। তাদের মৃত্যু এখনও রহস্যেঘেরা। ঘটনার পর মাসুমের ফুফাতো ভাই শাহ মান্না বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হচ্ছে, অভাব-অনটনের কারণেই এমনটা ঘটে থাকতে পারে। মাসুম হয়তো স্ত্রী-সন্তানদের বিষ খাইয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন। পুলিশও এমনটা ধারণা করছে। 

আরও পড়ুন

×