বিশেষ কমিটির সুপারিশ
দুদক, মানবাধিকার কমিশন নিয়েও আশা নেই
কমবে পুলিশ কমিশনের ক্ষমতা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪০ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মানবাধিকার কমিশন আগের আইনে চলবে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ উত্থাপন না করায় গুমের তদন্ত করতে পারবে না মানবাধিকার কমিশন। এ ছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ সংশোধন করে উত্থাপনের সিদ্ধান্তে শুরুতেই এ সংস্থাটির ক্ষমতা কমবে।
সংসদের বিশেষ কমিটিতে থাকা বিরোধী দলের এমপিরা এসব অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) জানিয়েছেন। গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলে ভিন্নমত জানিয়েছেন সরকারদলীয় এমপি ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরও। তিনি এ-সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার মতামত দিয়েছেন।
যদিও তাঁর ভিন্নমত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনেই রাখা হয়নি। সরকারদলীয় এমপির নিজ দলের বিরুদ্ধে মতামত দেওয়ার নজির বিরল। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা যাচাইয়ে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে গত ১২ মার্চ ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। তাদের মধ্যে ১১ জন বিএনপির। এ কমিটি গত বৃহস্পতিবার পুলিশ কমিশনসহ ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। দুদক, মানবাধিকার কমিশন এবং গুম-সংক্রান্ত পাঁচটিসহ ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করেছে। ফলে এ অধ্যাদেশগুলো আগামী ১১ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর বা বাতিল হয়ে যাবে।
এর মাধ্যমে দুদক আবার ২০০৪ সালের আইনে চলবে। সংবিধিবদ্ধ এ প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি এজাহার দায়ের এবং অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে না।
বিদেশে থাকা অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষমতা হারাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে সংস্থাটিকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের বাছাই কমিটিতেও আবার সরকারি প্রভাব বাড়বে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইন বাতিল করা হয়। অধ্যাদেশ বাতিল হতে যাওয়ায় ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহাল হবে। এতে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের বাছাই কমিটিতেও আবার সরকারি প্রভাব বাড়বে। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষমতা হারাবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতাও থাকবে না। শুধু আগের মতো সুপারিশ করতে পারবে সরকারকে।
গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে গুমের অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা মানবাধিকার কমিশনকেও দেওয়া হয়েছিল। এ অধ্যাদেশটি পাস না হওয়ায় মানবাধিকার কমিশন এই ক্ষমতাও হারাবে। গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে বিধান করা হয়েছিল, ‘অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা অথবা যে কোনো জরুরি পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অথবা সরকারি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বা নির্দেশ মোতাবেক করা হয়েছে– এমন অজুহাত অগ্রহণযোগ্য হবে।’ অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় এ বিধান আর থাকছে না।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, সরকার দুদক, মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার আইন কেন বাতিল করছে, তা বোধগম্য নয়। এই অধ্যাদেশগুলো পাস না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতো সরকারের অধীন হয়ে যাবে।
যদিও সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, অধ্যাদেশগুলো বাতিল হচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে সংসদে উত্থাপন করা হবে। ১১ এপ্রিল এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ায় কবে, কোন অধিবেশনে বিলগুলো উত্থাপন করা হবে, তা স্পষ্ট নয়।
তবে বিশেষ কমিটিতে থাকা সরকারি দলের একজন সদস্য সমকালকে বলেন, বিলগুলো আইনে পরিণত করার কোনো পরিকল্পনা নেই। এগুলো স্থায়ীভাবেই বাদ যাচ্ছে। সরকারি দলের একজন নয়; আরেকজন এমপিও নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন। কিন্তু দলের মনোভাবের কারণে তিনি তা প্রত্যাহার করে নেন।
আবার ‘নখদন্তহীন’ দুদক
আওয়ামী লীগ শাসনামলে দুদককে নখদন্তহীন বাঘ হিসেবে সমালোচনা করা হতো। ২০১৩ সালে শেখ হাসিনা সরকার দুদক আইন সংশোধন করে ৩২(ক) ধারা যুক্ত করে। এতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও মামলা করতে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এতে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলায় দুদক পুরোপুরি সরকারের ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে যায়।
২০১৪ সালে হাইকোর্ট এই ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তা বাতিলের নির্দেশ দেন। কিন্তু সরকার আপিল বিভাগে গিয়ে ধারাটিকে অব্যাহত রাখে। অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জারি করা অধ্যাদেশে ধারাটি বাতিল করে। অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় ১১ এপ্রিল থেকে আবার ৩২(ক) ধারা ফিরবে। আবারও সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলায় সরকারের অনুমতি দিতে হবে দুদককে।
গত বছরের অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইনে ২০(ক) ধারা যুক্ত করে দুদককে আরও ক্ষমতা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই ধারায় বলা হয়, লিখিতভাবে অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের যাচাই-বাছাইয়ে সরাসরি মামলার এজাহার দায়ের করা যাবে। অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় ১১ এপ্রিল থেকে দুদক এই ক্ষমতা হারাবে। সংসদের বিশেষ কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অধ্যাদেশটি বাতিলে মতামত দিয়ে বলেছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া এজাহারের ক্ষমতা সংবেদনশীল। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
অধ্যাদেশে বিধান করা হয়েছিল, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারকের নেতৃত্বে হাইকোর্টের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক; সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান; স্পিকারের মনোনীত সরকারি দল ও বিরোধী দলের দুজন এমপি এবং সুশাসন বা দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে ১৫ বছরের অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের বাছাই কমিটির মাধ্যমে দুদকের চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতিকে সুপারিশ করবেন।
অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় আগের মতো আপিল বিভাগের বিচারপতির নেতৃত্বে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সমন্বয়ে গঠিত আগের আইনের নিয়মে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে।
মানবাধিকার কমিশন ফের ক্ষমতাহীন
আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও তা বন্ধে বা তদন্ত তৎকালীন মানবাধিকার কমিশনের পদক্ষেপ না নিয়ে সমালোচিত হয়েছিল।
অধিকাংশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সরকারি ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী সংস্থার বিরুদ্ধে থাকলেও ২০০৯ সালের আইনের ১৮ ধারায় বলা হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করতে পারবে না মানবাধিকার কমিশন। মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযোগ পেলে কমিশন শুধু সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে। এরপর প্রয়োজন মনে করলে কমিশন শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। কিন্তু অতীতে দেখা যেত, সরকার কমিশনের চিঠি আমলে নিত না। প্রতিবেদন চাইলে দিত না। কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করত না।
অধ্যাদেশ পাস না হওয়ায় এই আইন ১১ এপ্রিল ফিরবে। অধ্যাদেশের ১৬ ধারায় বিধান করা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে কোনো অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে কমিশন। যে কোনো সরকারি কর্মচারী, বাহিনী ও সংস্থার সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে। অভিযুক্ত যে প্রতিষ্ঠান ও বাহিনীর সদস্য, তাদের বাদ দিয়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর সদস্য দিয়ে তদন্ত করাতে পারবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী বা বাহিনীর সদস্য হলে তাঁকে আদালতের অনুমতিতে গ্রেপ্তার করতে পারবে কমিশন। তবে সরকারের অনুমতি লাগবে না।
অধ্যাদেশের ২৩ ধারায় বলা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণ হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষ হয়ে কমিশন ক্ষতিপূরণ বা জরিমানার টাকা দায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করে দিতে পারবে। কমিশন আদেশ যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মানতে বাধ্য থাকবে। না মানলে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অদক্ষতা ও অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। চাকরি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে কমিশন।
সরকারের আইন ও সংসদ বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের মতামত দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কমিশন কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়। আগের আইনে সরকারি বাহিনীর তদন্ত করতে পারত না। অধ্যাদেশ বলে পারবে। যে কোনো আদেশ পালনের বাধ্যবাধকতা স্বেচ্ছাচারিতা সৃষ্টি করতে পারে।
অধ্যাদেশের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সরকারি ও বিরোধী দলের একজন করে এমপি, মানবাধিকার বিষয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন অধ্যাপক, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি অথবা মানবাধিকার বিষয়ে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাংবাদিক এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী থেকে রাষ্ট্রপতির মনোনীত একজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ৭ সদস্যের বাছাই কমিটি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য পদে নিয়োগের জন্য নাম মনোনীত করবে।
পুরোনো আইনে বলা হয়েছে, স্পিকারের সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সরকারি ও বিরোধী দলের একজন করে এমপির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য পদে নিয়োগের নাম প্রস্তাব করবে। আইনটি ১১ এপ্রিল পুনর্বহাল হবে। ফলে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ আবারও সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
শুরুতেই কমছে পুলিশ কমিশনের ক্ষমতা
পুলিশের জবাবদিহির জন্য জুলাই জাতীয় সনদে ‘স্বাধীন পুলিশ কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। বিএনপি এতে নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া একমত হয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর জারি করা অধ্যাদেশে গঠিত এই কমিশনকে পুলিশের যে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে নাগরিকের করা দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত, ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব পালনে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতেও কমিশনকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
বাছাই কমিটির মাধ্যমে সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে সাবেক সচিব, সাবেক অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শকসহ পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠন করা হবে। অধ্যাদেশের ১২ ধারায় বলা হয়েছে, কমিশন, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) পদে নিয়োগে সততা, মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা ও সন্তোষজনক দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শকের মধ্য থেকে তিনজনের নাম সরকারকে সুপারিশ করবে।
এই সুপারিশ গ্রহণ করা সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে সংসদে বিশেষ কমিটি, অধ্যাদেশের এই ধারা বাদ দিতে বলেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, তাৎপর্যপূর্ণ এই নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকা উচিত নয়।
সরকারি দলেরই দ্বিমত
বিশেষ কমিটিতে সরকার যেসব মতামত দিয়েছে, এর সবকটিতে দ্বিমত জানিয়েছেন বিরোধী দলের এমপিরা। সরকারি দলের এমপি নওশাদ জমির দ্বিমত করে বলেছেন, মানবাধিকার কমিশন কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখা মূলনীতির বিরুদ্ধ। সরকারের অধীনে থাকলে সরকারি প্রতিষ্ঠান করতে পারে না। করলেও তাতে বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না।
মানবাধিকার কমিশনের বাছাই কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধির বৃদ্ধির মতামতেও ভিন্ন মত জানিয়ে নওশাদ জমির লিখেছেন, বাছাই কমিটিতে ইতোমধ্যে চারজন সরকার-সংশ্লিষ্ট। আরও বেশি সরকারি প্রতিনিধি থাকলে বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে।
গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে পূর্ব অনুমতির মতামতেও ভিন্ন মত জানিয়েছেন নওশাদ জমির। মতামতে বলেছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঘানা, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়াসহ যেসব নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, সেখানে তাদের মানবাধিকার কমিশনের অধীনে রাখা হয়েছে। যা সরকারের স্বার্থেই জরুরি। গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতির বিধান প্রবর্তনেও ভিন্ন মত জানিয়েছেন এই এমপি।
- বিষয় :
- দুদক
- মানবাধিকার কমিশন
- পুলিশ কমিশনার
