দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
সম্পর্ক স্বাভাবিকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বার্তা দেবে ঢাকা
ভারত তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলোতে সহযোগিতার নিশ্চয়তা চায়
খলিলুর রহমান
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বার্তা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভারতে গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দিল্লিতে তাঁর বৈঠকগুলোতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম ভারত সফরে গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মরিশাস যাওয়ার পথে ভারতে যাত্রাবিরতি করছেন তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক একেবারে তলানিতে পৌঁছেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর যে অনাস্থা ও অবিশ্বাস ভারতের ছিল, তা দূর করে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে চায় বিএনপি সরকার।
এদিকে ভারতের কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দিল্লি নতুন সরকারের প্রতি বন্ধুত্বের হাত আগেই বাড়িয়েছে। ঢাকার কাছ থেকে তারা উদ্বেগের বিষয়গুলোতে সহযোগিতার নিশ্চয়তা চায়। এসব বিষয়ে অগ্রগতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে যাবে দিল্লি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় এক কূটনীতিক বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পরিবর্তন মেনে নিতে পারেনি দিল্লি। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগোয়নি। তারা বরাবরই নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলে আসছিল। ঢাকা সে দিকটা বিবেচনায় রেখে ভারতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যাত্রাবিরতিটি পরিকল্পনা করেছে। দিল্লিতে তাঁর বৈঠকগুলোতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের বার্তা থাকবে। সম্পর্কে তিক্ততা উস্কে দেবে এমন কোনো কঠিন বিষয় আনা হবে না।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শুভেচ্ছা সফরে ভারত যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি ১০ থেকে ১২ এপ্রিল মরিশাসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে গতকাল ঢাকা ত্যাগ করেন। পথে তিনি নয়াদিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেছেন। সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সৌজন্য বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা।
এসব বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মরিশাস সম্মেলনে অংশ নেবেন ও ভারত সফর করছেন।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বুধবার (আজ) দুপুরে ১টায় দিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বিকেল সাড়ে ৪টায় বাণিজ্য ভবনে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং সাড়ে ৫টায় ৬, আকবর রোডে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় মরিশাসের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন খলিলুর রহমান।
আওয়ামী লীগের ওপর ভারতের নির্ভরতার মূল কারণ ছিল নিরাপত্তা। ২০০১-২০০৬-এ বিএনপি সরকারের সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ ছিল দিল্লির। এতে দিল্লির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে বিএনপির। ২০০৮-এর নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ভারতবিরোধীদের বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। এ কারণে আওয়ামী লীগকে পূর্ণ সমর্থন দেয় ভারত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারকে আস্থায় নেয়নি দিল্লি। পরে বাস্তবতা অনুধাবন করে এবং বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেয়।
ঢাকার এক কূটনীতিক সমকালকে বলেন, আগের অভিজ্ঞতা ভুলে নতুন করে আস্থায় নেওয়ার বিষয়টি খুব সহজ নয়। ভারতের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হচ্ছে তাদের নিরাপত্তা। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা এ বিষয়টিতে নিশ্চয়তার বার্তা নিয়ে যাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয় দিল্লির কতটা আস্থা অর্জন করতে পারে ঢাকা। সফরকালে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
ভারতের এক কূটনীতিক বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে সহসাই আর দিল্লির পছন্দের দল বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসছে না। প্রতিবেশী দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ক চলমান থাকতে হবে। ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দিল্লি একাধিক বার্তা বিভিন্নভাবে দিয়েছে।
- বিষয় :
- খলিলুর রহমান
