মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক বক্তৃতায় শাহ্দীন মালিক
স্বৈরশাসনের দায় সংবিধানের নয় অপব্যবহারকারীদের
ড. শাহ্দীন মালিক
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২২ | আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্দীন মালিক বলেছেন, বাহাত্তরের সংবিধান নির্ভুল ছিল এবং এটিতে ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল না– এমনটা নয়। কিন্তু বিগত সময়ে এই সংবিধান নিয়ে এত টানাহেঁচড়া হয়েছে, তার জন্য বাহাত্তরের সংবিধান দায়ী নয়। স্বৈরশাসন বা স্বেচ্ছাচারিতা– এটা সংবিধানের দোষ নয়। এর দায় যারা এই সংবিধানের অপব্যবহার করেছে, তাদের ওপরেই বর্তায়।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
গান, নাচ, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বাহাত্তরের সংবিধান’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতাসহ নানা আয়োজনে উদযাপিত হলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। শুরুতেই ‘ত্রিশ বছরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’ শীর্ষক ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পথচলার ইতিহাস তুলে ধরা হয়। পরে তামান্না রহমানের পরিচালনায় ও ‘নৃত্যম’-এর নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনায় ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’ শিরোনামের একক এবং ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি, ছুটে ছুটে আয়’ শিরোনামের দলীয় নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
এরপর রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বে সূচনা বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী। গত এক বছরে জাদুঘরের কার্যক্রম নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আরেক প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব মফিদুল হক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জাদুঘরের ট্রাস্টি ত্রপা মজুমদার। ওয়ার্দা আশরাফের কণ্ঠে কয়েকটি গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের যবনিকা টানা হয়।
স্মারক বক্তৃতায় ড. শাহ্দীন মালিক বাহাত্তরের সংবিধান রচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য, জনগণের ক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যে সংবিধান তৈরি করা হলো, তার ওপরই বারবার আক্রমণ এসেছে। যার প্রথম অবক্ষয় ও বিচ্যুতি ঘটেছে এই সংবিধান কার্যকরের মাত্র সাত মাসের মাথায় দ্বিতীয় সংশোধনী এনে। চতুর্থ সংশোধনীতে বাকশাল কায়েম এবং সামরিক শাসকদের ফরমান জারির মাধ্যমেও এটিকে বারবার কাটাছেঁড়া করা হয়েছে।
আমাদের ভালো ইতিহাস যেমন আছে, তেমনি মন্দ ইতিহাসও আছে– এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ১৫ বছরে অধিকারবঞ্চিত ও অত্যাচারিত-নির্যাতিত হতে হতে মানুষের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ জমা হয়। এই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে। স্বৈরশাসকদের এমনটাই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এত চটজলদি এসব অধ্যাদেশের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারণ এসব অধ্যাদেশ যে সরকার করেছে, তাদের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা ছিল না। কেবল চারজন উপদেষ্টা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এগুলো করেছেন। তাই জনগণের প্রতিনিধিদের আলোচনা ছাড়াই এগুলো অনুমোদন হলে মনে হবে গণতন্ত্রের ‘গ’ বুঝতেও আমাদের অনেক সময় লাগবে।
- বিষয় :
- মুক্তিযুদ্ধ
- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
- স্বৈরশাসন
