বিচারপতিকে লাভজনক পদে নিয়োগ অব্যাহত থাকলে সততাকে প্রভাবিত করতে পারে: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৫৪
অবসরে যাওয়ার পর কোনো বিচারপতিকে লাভজনক পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বিচারপতিদের লোভনীয় পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টের সততা বা অখণ্ডতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও ইউএনডিপি যৌথ উদ্যোগে ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সংসদ সদস্যদের (এমপি) গবেষণার কাজের জন্য একজন করে ইন্টার্ন দেওয়া যায় কি-না সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সংস্কার প্রয়োজন, বাজেট বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া বার কাউন্সিলের পরীক্ষাকে যুগোপযোগী করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
এছাড়া যেসব আইনজীবীরা বিচার পাইয়ে দেওয়ার নামে মক্কেলদের সাথে প্রতারণা করেন তাদেরকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার নামে এক অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ একজন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা নিয়েছেন এমন অভিযোগ সুপ্রিমকোর্ট বারে জমা পড়েছে। এ ধরনের ঘটনা ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’। আমরা এমন আইনজীবী চাই না।
তিনি বলেন, আমরা আইন পেশার গুনগতমান উন্নত করতে চাই। আমরা এমন আইনজীবী চাই যারা দেশের জন্য অবদান (কন্ট্রিবিউট) রাখতে পারেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই ‘যার নেই কোন গতি সে করে উকালতি’- এই ধারণা থেকে মানুষকে বের করে আনতে হবে। একটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আগামী প্রজন্ম যাতে তাদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে এবং সততা ও সাহস দিয়ে দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারেন সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ন্যায়বিচার ও আইনি উৎকর্ষের অগ্রগতির জন্য জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একসাথে কাজ করলে কি অর্জন হয় এই কর্মসূচিটি তার একটি প্রমাণ।
তিনি বলেন, সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা এগুলোই একজন আইনজীবীর বিশ্বাসযোগ্যতার মূল ভিত্তি। একটি দেশের বিচার ব্যবস্থার শক্তি কেবল প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরই নির্ভর করে না, বরং এর মধ্যে যারা কাজ করেন তাদের চরিত্র এবং যোগ্যতার উপরও নির্ভর করে। আমাদের আগামী প্রজন্ম সাংবিধানিকতা, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সে প্রত্যাশা করছি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউএনডিপি'র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া, ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর ও ডেপুটি অ্যাটর্নি ব্যারিস্টার তাসনুভা শেলীসহ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম শেষ করা প্রথম ব্যচের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান ও নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠ করানো হয়।
- বিষয় :
- আইনমন্ত্রী
- মো. আসাদুজ্জামান
