ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তেল নেওয়ার জন্য অফিস থেকে ছুটি, ভোগান্তি চরমে

তেল নেওয়ার জন্য অফিস থেকে ছুটি, ভোগান্তি চরমে
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:২০

কবির হোসেন একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত। তিনি একটি মাইক্রোবাসে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বাসা থেকে অফিস ও অফিস থেকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন। কিন্তু জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। সকাল ৭টায় তেজগাঁও এলাকার হাতিরঝিলের কুনিপাড়ায় জ্বালানির জন্য গাড়ির লাইনে দাঁড়ান তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি তেজগাঁও-গুলশান লিঙ্ক রোড পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হন। তেল পেতে আরও ঘণ্টা দেড়েক লাগবে বলে ধারণা এই চালকের।

গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, তেজগাঁও-গুলশান লিঙ্ক রোডের আইডিয়াল ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার জন্য হাতিরঝিলের কুনিপাড়া থেকে যানবাহনের সারি শুরু হয়েছে। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনের একপাশে মোটরসাইকেল। সেগুলো ঘেঁষে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিকআপ, ছোট কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। হাতিরঝিল সড়কের একপাশ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে গাড়িগুলো দাঁড়ানো। কয়েক মিনিট পরপর সামনে এক-দুই গজ করে এগোচ্ছে।

রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেল চালক মো. জসিম বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে তখন, যখন সাত-আট ঘণ্টা পর পাম্পের কাছে গেলে বলা হয়– তেল শেষ। আজ আর তেল দেওয়া হবে না। মনে করেছিলাম, দাম বাড়ানোর পর আর তেলের সংকট থাকবে না। এখন দেখি, অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই যদি সাত-আট ঘণ্টা তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়, তাহলে সরকার দাম বাড়াল কেন?’

যারাই লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সবার চোখেমুখে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা। তাদের কারোরই তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই।

আরেক মোটরসাইকেল চালক নাম প্রকাশ না করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভাই, কী বলব! এক দিন আগে অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় মোটরসাইকেলের পুরো তেলই শেষ হয়ে যায়। তারপর বনানী থেকে ঠেলে ঠেলে দুই কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে মহাখালীতে তেলের লাইনে দাঁড়ান। রাত ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে বুঝতে পারি, তেল পেতে ভোর হয়ে যাবে। পরে তেল না নিয়ে আবারও ঠেলে ঠেলে তেজগাঁওয়ের বাসায় চলে যাই। মঙ্গলবার আরেকজনের বাইক থেকে আধা লিটার অকটেন ধার করে হাতিরঝিলের কুনিপাড়ায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। তেল নেওয়ার জন্য অফিস থেকে ছুটিও নিতে হয়েছে।’ 

উবার গাড়িচালক রেফায়েত হোসেন জানান, তাঁর গাড়ি সিএনজি হলেও স্টার্ট দেওয়ার সময় অকটেন না হলে চলে না। এ জন্য প্রতিদিন তাঁর চার-পাঁচ লিটার তেল লাগে। যেদিন তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়, সেদিনের ব্যবসা শেষ। ওই দিন আর কোনো ট্রিপ দিতে পারেন না।

একজন ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত গাড়িচালক তসলিম উদ্দিন বলেন, লাইনের শুরু থেকে পাম্প পর্যন্ত অন্তত দুইশবার স্টার্ট দিতে হয়। তাতেই কয়েক লিটার তেল শেষ। এই তেলের সংকটের জন্য মালিক তাঁর সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে দিয়েছে। কারণ, তাঁর গাড়ি সিএনজি করা হয়নি। প্রতিদিনই তাঁর অন্তত ১৫ লিটার তেল প্রয়োজন। কিন্তু পাম্পে গেলে ১৫-১৬ লিটারের বেশি দেয় না। ফলে পরের দিনের জন্য তাঁর আর অবশিষ্ট তেল থাকে না।

আরও পড়ুন

×