সমাপনী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা
বাহাত্তরের সংবিধানে সম্মান নেই, আন্দোলন করলেও বিদ্রোহ নয়
তিস্তা প্রকল্প শুরু করলে সরকারকে সমর্থনের বার্তা
ডা. শফিকুর রহমান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ | ০৯:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সম্মান না থাকলেও বাহাত্তরের সংবিধান মেনে চলেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সংবিধান সংস্কারের দাবি করেছেন তিনি। ভারতের আপত্তির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার প্রকল্প গ্রহণ করলে বিরোধী দল সমর্থন করবে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আধিপত্য বিস্তারে ক্ষমতাসীন দলের হানাহানি বন্ধের দাবি করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহননকারীদের চিহ্নিত করে বিচারেরও দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন শফিকুর রহমান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে বিরোধীদলীয় নেতা ৪৩ মিনিট বক্তৃতা করেন। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী জামায়াত সংবিধান সংস্কারে সোচ্চার থাকলেও দলীয়প্রধানের ভাষণে তা আসেনি। বরং তিনি বিএনপিকে প্রশ্ন করেন, তারা কীভাবে বাহাত্তরের সংবিধান মানে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘অনেকে বাহাত্তরের সংবিধানের প্রতি সম্মান দেখান, আমি এটা পারি না। কারণ, এ সংবিধানকে পরিবর্তন করে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাহলে কীভাবে বাহাত্তরের সংবিধান মানি?’
এ অবস্থানের কারণে বিএনপি জামায়াতকে সংবিধানবিরোধী হিসেবে দেখে– দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘অনেকে বলার চেষ্টা করে, আমরা সংবিধান মানি না। সংবিধান না মানলে এখানে এলাম কীভাবে? আমরা আইন মান্যকারী নাগরিক। সংবিধান পছন্দ না হলে আন্দোলন করতে পারি, বিদ্রোহ নয়।’
সরকারি দলের এমপিরা ইতিহাস চর্চায় ব্যস্ত বলে বিদ্রুপ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ক্ষমতায় যখন থাকেন, তখন নিজেকে সবাই ফেরশতা মনে করেন। অন্যদের দোষ দেখেন। অন্যের দোষের তালিকা তৈরি করা খুব সহজ। ১২ মার্চ থেকে সরকারি দলের বক্তব্যের ৮০ ভাগ হচ্ছে ইতিহাস চর্চা। বিরোধীদলীয় নেতা জানান, তিনি সাতচল্লিশকে সম্মান করেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রস্তাব
সরকার কৃষকের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণায় রয়েছে। গ্রামে ১০ টাকায় বিক্রি করা ফসল, ঢাকায় ৪০ টাকায় বিক্রি করা হয়। কৃষক কী ন্যূনতম দামের জন্য সরকার থেকে এটুকু সমর্থন পেতে পারে না? তিনি জানান, জামায়াত নির্বাচনী প্রচারে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে। দলটির অবস্থান হলো, চীনের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন।
- বিষয় :
- ডা. শফিকুর রহমান
