ইসিকে মনিরার চিঠি
রিট মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ২১:২৭
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ না করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আবেদন জানিয়েছেন এই নির্বাচনের অপর প্রার্থী ও একই দলের নেত্রী মনিরা শারমিন। এ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতে তার রিট মামলার শুনানি ও আদেশ না হওয়া পর্যন্ত এই গেজেট প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
আজ রোববার এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়ে এই আবেদন জানান মনিরা শারমিন। আবেদনে তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে তিনি এনসিপি’র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেও বাছাই ও পরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল শুনানিকালে বেআইনিভাবে বাতিল করা হয়। এরপর এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট মামলার করেছেন তিনি। যার শুনানি সোমবার অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, ‘রিট মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অপর প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া আবশ্যক। যেহেতু আমার দল প্রথমে আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে, সেহেতু হাইকোর্টের আদেশের জন্য নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত। অন্যথায় আমি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হব।’
এর আগে সরকারি চাকরি থেকে থেকে পদত্যাগের তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া সংক্রান্ত জটিলতায় গত ২৩ এপ্রিল মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করলে ২৮ এপ্রিল শুনানিতেও তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ক্ষুব্ধ হয়ে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট করেন মনিরা শারমিন। যার শুনানি আগামীকাল সোমবার হওয়ার কথা রয়েছে।
পরে মনিরাকে বাদ রেখেই অন্য ৪৯ জন প্রার্থীকে বৈধ ও বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে ইসি। রোববার রাতে এই ৪৯ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, মনিরার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে, এমন আলোচনার মধ্যেই ২১ এপ্রিল মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টার ১৯ মিনিট দেরিতে জামায়াত জোট থেকে এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমও মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের পর দাখিল করায় তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। নুসরাত হাইকোর্টে রিট করলে আদালত তার মনোনয়ন গ্রহণ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী, গত শনিবার রিটার্নিং কর্মকর্তা বাছাই করে নুসরাতের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা এবং রোববার বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এ অবস্থায় এনসিপির দুই প্রার্থীর মধ্যে শেষপর্যন্ত কে নির্বাচিত হবেন, তা নিয়ে এক ধরনের আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, মনিরার রিটের শুনানি শেষে আদালত তার মনোনয়ন গ্রহণ করতে বললে আসনটিতে ভোট নিতে হবে ইসিকে। এতে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে দুই প্রার্থীর একজনকে বেছে নিতে পারবেন। আর মনিরার রিট খারিজ হলে নুসরাত যাবেন সংসদে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেছেন, ইসি নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতার বিষয়ে আপিল ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় রেখেছে ইসি। সেজন্য রোববার তার বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হয়নি এবং তিনি শপথও নিতে পারেননি। সব ঠিক থাকলে সোমবার গেজেট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তবে এক্ষেত্রে মনিরা শারমিনের রিটের বিষয়টিও ইসিকে নজরে রাখতে হচ্ছে। আর এটি পুরোপুরি আদালতের ওপর নির্ভর করছে। আদালত রুল জারি করলে তখন ইসিকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ একটি সংরক্ষিত নারী আসনের পদে নুসরাতকে নির্বাচিত করার পর আদালত মনিরার পক্ষেও রায় দিলে জটিলতা তৈরি হবে। ফলে অনেক কিছু চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
- বিষয় :
- সংরক্ষিত নারী আসন
- এনসিপি
- জামায়াতে ইসলামী
