তিন মাসে এলএনজিতে ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ | ১২:০২
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের এলএনজির অন্যতম উৎস কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাই বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ৩০ কার্গোর ২৮টিই স্পট থেকে কেনা হচ্ছে। এতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগছে।
সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ প্রদানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রথম বৈঠক গতকাল রোববার কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সদস্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান, নূরুল ইসলাম, আব্দুল বাতেন, আবুল হাসনাত ও মোহাম্মদ আবুল হাসান বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বর্তমান জ্বালানির সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসেই ৩০টি এলএনজি কার্গো আমদানিতে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ও স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে গ্যাস সংগ্রহ করতে হওয়ায় ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। কিন্তু সেই অনুপাতে ভোক্তা পর্যায়ে দাম সমন্বয় না হওয়ায় পুরো ব্যবধানই ভর্তুকি হিসেবে বহন করতে হচ্ছে। এপ্রিলে ভর্তুকি চার হাজার ২২০ কোটি টাকা, মে মাসে তিন হাজার ৯১৪ কোটি টাকা এবং জুনে তিন হাজার ৮৬১ কোটি টাকা।
এলএনজির পাশাপাশি অন্যান্য জ্বালানি পণ্যেও ভর্তুকির চিত্র উদ্বেগজনক। সম্প্রতি দাম বাড়ানোর পরও প্রতি লিটার ডিজেলে ভর্তুকির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি প্রায় ৮৯ টাকা। ফার্নেস অয়েলে লিটারে প্রায় ২৬ টাকা ভর্তুকি যাচ্ছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ করণীয় হিসেবে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। পরিকল্পনায় রয়েছে সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং পুরো আমদানি-বিপণন ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয়তার আওতায় আনা। পাশাপাশি আইন ও নীতিমালা হালনাগাদ, সরবরাহ শৃঙ্খলে জবাবদিহি নিশ্চিত এবং পাইপলাইনভিত্তিক পরিবহন জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং চালু এবং দ্বিতীয় পরিশোধনাগার দ্রুত বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দেশের চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পর্যালোচনা করা হয় এবং কমিটির সদস্যরা তাদের মতামত দেন। কমিটি পরে আরও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ সংসদে রিপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- বিষয় :
- মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত
