ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তা রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করবে

সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তা রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করবে
×

শামছুল ইসলাম

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৯:০৫ | আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ | ১১:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের পারস্পরিক সহযোগিতা রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করবে। সশস্ত্র বাহিনী সব সময়ই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিজেদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আসছে। গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগবিষয়ক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের উপস্থিতিতে অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ‍উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সুদৃঢ় সম্পর্ক দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে সশস্ত্র বাহিনী মাসের পর মাস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, ব্যাংক, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতি বজায় রেখে তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জননিরাপত্তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি আস্থা রেখে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কিছু অসাধু ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে সামরিক বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে এবং সব ব্যর্থতার দায় সামরিক বাহিনীর ওপর চাপিয়ে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চেয়েছে। কিন্তু জনগণের আস্থা, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ের কারণে সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি। 

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তার বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতার সমন্বয়ই কার্যকর ও টেকসই নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তি।

এত চমৎকার নির্বাচন আগে হয়নি– সেনাপ্রধান
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এত চমৎকার নির্বাচন আগে কখনও হয়নি। সামরিক ও অসামরিক বাহিনী একসঙ্গে কাজ করলে যে কোনো কঠিন কাজও সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব, এ নির্বাচন তার প্রমাণ। 

ডিসিদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আপনাদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনারা জাতিকে একটি চমৎকার নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। একসময় দেশে আশা-নিরাশার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অনেকেই বলেছিলেন, নির্বাচন হবে না। কিন্তু আমরা সেটিকে ভুল প্রমাণ করে দেশ ও জাতিকে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে এনেছি।’

সেনাপ্রধান ডিসিদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘যে কোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাইলে তা দ্রুত পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট সেনা ফরমেশনকে জানালে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করবে। দুর্যোগ, দুর্ঘটনা বা অন্য যে কোনো পরিস্থিতিতে আপনাদের সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান উপকূলীয় ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় নৌবাহিনীর কার্যক্রম তুলে ধরেন। বিমানবাহিনী প্রধান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নতুন বিমান সংযোজনের প্রয়োজনীয়তা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। 

আরও পড়ুন

×