বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন ও সমকাল গোলটেবিল
উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টাইমস মিডিয়া ভবনের সমকাল কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘উচ্চ রক্তচাপ শুধু রোগ নয়: জীবনযাপন ও চিকিৎসা বাস্তবতার সংকট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অতিথিরা। ছবি -সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ০৮:৪৫ | আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ | ১৩:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
উচ্চ রক্তচাপ অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। একসময় এটি বয়স্কদের রোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে তরুণদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবার আগে দরকার সচেতনতা।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, অপর্যাপ্ত ঘুম, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপার টেনশনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা, ফলোআপ, ওষুধ সেবন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘উচ্চ রক্তচাপ শুধু রোগ নয়: জীবনযাপন ও চিকিৎসা বাস্তবতার সংকট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এমন মতামত উঠে আসে। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন ও সমকাল যৌথভাবে এ আয়োজন করে। বৈজ্ঞানিক সহযোগী ছিল অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড।
বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা
মুগদা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. শাহাবুল হুদা চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নীরবে ছড়িয়ে পড়া একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার এখনই সময়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। বাংলাদেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ হাইপারটেনশনে ভুগছে।
ডা. শাহাবুল হুদা বলেন, বয়স ৫০-এর কাছাকাছি গেলে অর্ধেক সংখ্যকের বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপ বা এর ঝুঁকিতে পড়েন। কিন্তু কার্যকর ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও সচেতনতা, অনিয়মিত ফলোআপ ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে এটি এখনও বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে আছে।
তিনি বলেন, উদ্বেগের বিষয় হলো, তরুণ কর্মজীবীদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে। আশার কথা হচ্ছে, এটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ– দুটোই সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘কন্ট্রোল হাইপারটেনশন টুগেদার’, অর্থাৎ এই নীরব ঘাতককে পরাজিত করতে পরিবার, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
নীরব ঘাতক
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. মনির-উজ-জামান বলেন, বড় সমস্যা হলো হাইপারটেনশনের সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিউর, কিডনি জটিলতা বা অন্য কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিষয়টি ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সংস্কৃতি নেই। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ গ্রহণ এবং কোয়ালিফায়েড চিকিৎসকের পরামর্শ না নেওয়ার কারণে জটিলতা আরও বাড়ছে। অথচ জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নিয়মিত ওষুধ সেবন ও ফলোআপের মাধ্যমে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম বলেন, জিনগত কারণ, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান, অ্যালকোহল, বয়স বৃদ্ধি ও মানসিক চাপ উচ্চ রক্তচাপে বড় ভূমিকা রাখে। ফাস্টফুড, এনার্জি ড্রিংকস, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও অনিয়মিত ঘুম তরুণদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উৎসাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রতি থানায় উচ্চ রক্তচাপের সেন্টার প্রয়োজন
বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, ২০০৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কারণ, উপসর্গহীন এই অসুখ ধীরে ধীরে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে।
প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাইয়েদুর রহমানও বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাইপারটেনশন যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে, তখনই জানা যায় তার হাইপারটেনশন আছে। কখনও এটি নিয়মিত পরীক্ষার অংশ হিসেবেও ধরা পড়ে।
বর্তমান অবস্থায় দেশের বিপুল সংখ্যক রোগীর ব্যবস্থাপনা করা কঠিন। এ জন্য কমিউনিটি পর্যায়ে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা দরকার। ডা. জাকির হোসেন সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে প্রতি থানায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সেন্টার গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
ডা. জাকির হোসেনের সঙ্গে একমত পোষণ করে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. রাজিবুল আলম বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে রক্তচাপ ও সুগার পরীক্ষার কর্নার চালু করা প্রয়োজন। যেভাবে ওরস্যালাইন শব্দটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে, তেমনি উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কেও ব্যাপক সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্রামে রোগ নির্ণয়ের হার কম
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহাম্মদ মনজুরুল আজিজ বলেন, গ্রামে মানুষ শারীরিক পরিশ্রম বেশি করে। তবে সেখানেও জাঙ্ক ফুড গ্রহণ ও আয়েশি ভাব বাড়ছে। গ্রামে রোগ নির্ণয়ের হারও কম। আবার শহরে রোগ নির্ণয়ের সুবিধা থাকলেও সেই হারে শনাক্ত করা হয় না। তিনি বলেন, আরেকটি উদ্বেগের বিষয়– রক্তচাপ মাপার মেশিন। হাসপাতালগুলোতে মেশিনের মান সব সময় ভালো থাকে না।
তরুণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমানে প্রতি পাঁচজনের একজন তরুণ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। কভিড-পরবর্তী সময়ে শিশু-কিশোরদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। খেলাধুলার জায়গা নিয়েছে মোবাইল ফোন, ভিডিও গেম ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। এর ফলে মানসিক চাপ বাড়ছে।
তিনি বলেন, চিপস, আচার, বার্গার, পিৎজা, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত চিনি-লবণযুক্ত খাবার তরুণদের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে। ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার প্রবণতা কমছে। ধূমপান, মাদক, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণও বড় ঝুঁকি হিসেবে কাজ করছে। যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন, তাদের ঝুঁকি বেশি।
ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, গ্রাম ও শহর উভয় জায়গাতেই মানুষের ধারণা, একবার ওষুধ শুরু করলে সারাজীবন খেতে হবে। এই ভয়েই অনেকে চিকিৎসা নিতে চান না। এখনকার গাইডলাইন অনুযায়ী ১৩০/৮০ রক্তচাপকেও হাইপারটেনশন ধরা হয়। তাই মানুষকে সঠিক তথ্য জানানো জরুরি।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আশিকুর রহমান খান বলেন, উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হওয়ার পরও রোগীরা ওষুধ নিয়মিত খায় না। গ্রামে ওষুধের দোকানে অনেকেই উচ্চ রক্তচাপ পরিমাপ করতে গেলে লো প্রেশার দেখানো হয়। এ ছাড়া দেশে কোনো গাইডলাইন না থাকায় চিকিৎসা দিতেও সমস্যা হয়।
সফল হওয়ার চাপ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাকারীয়া আল-আজিজ বলেন, আমরা সবাই এখন সফলতার পেছনে ছুটছি। সফলতা বলতে আসলে কী বোঝায়, তা আগে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। ক্লাস ফাইভ বা এইটে এ প্লাস পাওয়ার জন্য মা-বাবারা বাচ্চাদের পেছনে যেভাবে দৌড়াচ্ছেন, তাতে বাচ্চাদের অনেক মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। পেশার চাপ, অর্থনীতির চাপ বা একাকিত্ব এগুলো সবই স্ট্রেস বাড়াচ্ছে এবং হাইপার টেনশন হচ্ছে।
ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেসে থাকা মানুষের কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি।
ড্যাশ ডায়েট ও ব্যায়াম কার্যকর
পপুলার মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহির উদ্দিন বলেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, ‘ড্যাশ ডায়েট’ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। যেমন ফলমূল। এগুলো পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার।
নারীদের ঝুঁকি বাড়ছে
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাহনুমা পারভীন বলেন, বাংলাদেশে প্রতি চারজন নারীর একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। ৩৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে এই হার আরও বেশি। গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ, মেনোপজ-পরবর্তী হরমোন পরিবর্তন এবং মানসিক চাপ নারীদের ঝুঁকি বাড়ায়। পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপের হার বেশি দেখা যায়।
ঘুমের অভাবও বড় ঝুঁকি
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. নূর-এ-আলম খান বলেন, উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত ঘুম রক্তচাপ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মেলাটোনিন হরমোন কমিয়ে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে ওজন বাড়ে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।
লবণ কমাতে হবে, খেলাধুলা বাড়াতে হবে
মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও গণমাধ্যম এই তিন খাতের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দিনে পাঁচ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। স্কুলে খেলাধুলা কমে যাওয়ায় শিশুদের স্থূলতা বাড়ছে। অফিসে ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স নিশ্চিত করা জরুরি। ভুল ধারণা দূর করতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ লবণ খায়, বিশেষ করে ফাস্টফুডে লবণের পরিমাণ অনেক বেশি। এটা রক্তচাপ বাড়ায়।
ওষুধ বন্ধ করলে ঝুঁকি বাড়ে
বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. ইলিয়াস ভূঁইয়া বলেন, অনেকে প্রেশার নিয়ন্ত্রণে এলে ওষুধ বন্ধ করে দেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে রক্তচাপের ওঠানামা স্থায়ী উচ্চ রক্তচাপের চেয়েও বেশি ক্ষতি করতে পারে।
অপসোনিন ফার্মা লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মাহমুদুল হক বলেন, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো এখন শুধু ওষুধ উৎপাদন নয়, সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে। অপসোনিন ফার্মা ১৯৫৬ সালে যাত্রা শুরু করে। কোম্পানির লক্ষ্য হলো চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নতুন ওষুধ সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারে আনা।
অপসোনিন ফার্মার বিপণন বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক তাজ মো. আগা মেনন বলেন, 'আমরা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো এখন শুধু ওষুধ তৈরিই করছি না, সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছি। আমরা 'বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস' উপলক্ষে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প এবং পাবলিক এডুকেশন প্রোগ্রাম পরিচালনা করি। রোগীদের সুবিধার জন্য আমরা 'ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন' এবং দিনে একবার খাওয়ার ওষুধ নিয়ে আসছি যাতে ওষুধের সংখ্যা কমে এবং রোগীরা নিয়মিত খেতে পারে। আমরা মানসম্মত ওষুধ এবং সারা বাংলাদেশে এর সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।'
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।
