ট্রলারডুবিতে ব্যবসায়ীসহ ২৩ গরু নিখোঁজ
শিমুলিয়া ঘাটে গতকাল ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করেন আব্দুস সালাম আজাদ এমপি সমকাল
চাঁদপুর ও লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ১০:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়ায় পদ্মা নদীতে গরুবাহী ট্রলারডুবিতে ২৩টি গরুসহ আইয়ুব আলী নামের এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। আইয়ুব আলী ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের সালিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর মিস্ত্রির পুত্র। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে মাওয়ায় পদ্মা সেতুর ১৫ নম্বর পিলার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ফরিদপুরের চর ভদ্রাসন থেকে ১৫ জন পাইকার ২৮টি কোরবানির গরু নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে কালবৈশাখী শুরু হলে ট্রলারটি পদ্মায় ডুবে যায়। লৌহজং ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা মো. সুমন আলী জানান, ট্রলারডুবির পর ১৪ জন পাইকার সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পাঁচটি গরুও বেঁচে যায়। তবে একজন পাইকার নিখোঁজ রয়েছেন। ২৩টি গরুর সন্ধান মেলেনি।
শিমুলিয়া ঘাটের ১০ রেস্তোরাঁ লন্ডভন্ড
লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে কালবৈশাখীতে ১০টি রেস্তোরাঁ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে কালবৈশাখীর তাণ্ডব শুরু হয়। ঝড়ে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের। তবে কেউ হতাহত হয়নি। ঝড়ের পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ।
মাওয়া কুটুমবাড়ি ও ইলিশ বাড়ি রেস্তোরাঁর মালিক মো. মাসুদ বলেন, কয়েক মিনিটের ঝড়ে আমাদের রেস্তোরাঁসহ পাশের ১০টি রেস্তোরাঁর চাল উড়িয়ে গেছে। ঈদের আগে এ ঝড়ে আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। মেরামত করতে দোকানপ্রতি ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা লাগবে। ২-৩ দিন পরেই ঈদ। ঈদ সামনে রেখে ব্যবসাই মাটি হয়ে গেল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। আমরা সরকারিভাবে সাধ্যমতো সহযোগিতা করব।
চাঁদপুরে দুই লঞ্চের সংঘর্ষ, আহত ১০
হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নোঙর করা একাধিক লঞ্চ, পন্টুন ও জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় ঘাটে ভিড়তে গিয়ে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রীবাহী ‘ঈগল-৭’ লঞ্চে থাকা যাত্রীরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখনই যাত্রীবাহী ‘ময়ূর ২’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঈগল-৭ লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়। এতে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হলে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। ঘটনার পরপরই ঘাট এলাকায় দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আতঙ্কিত যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
চাঁদপুর নৌ পুলিশের এসআই বিল্লাল আজাদ জানান, লঞ্চ থেকে নামার সময় কয়েকজন যাত্রী আহত হলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। লঞ্চ ও পন্টুনে পড়ে থাকা যাত্রীদের মালামাল তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু সময়ের জন্য নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। প্রচণ্ড ঝড়ে পন্টুন ও জেটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।
- বিষয় :
- ঝড়
