ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মানবাধিকার প্রতিবেদন

মে মাসে নারী নির্যাতনের ঘটনা ৩২৬, ধর্ষণ ৭৮

মে মাসে নারী নির্যাতনের ঘটনা ৩২৬, ধর্ষণ ৭৮
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ | ২১:৩৮ | আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ | ২১:৪৭

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা চলতি বছরের মে মাসে আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংস্থাটির প্রকাশিত দুই মাসের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মনিটরিং প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মে—এক মাসের ব্যবধানে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা ৩১২ থেকে বেড়ে ৩২৬-এ পৌঁছেছে।

বিশেষ করে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, যৌন হয়রানি এবং আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে তারা। দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে এমএসএফ।

রোববার প্রকাশিত মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিলে ধর্ষণের ঘটনা ছিল ৫৪টি। মে মাসে তা বেড়ে ৭৮-এ দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৪ থেকে বেড়ে ১৬ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ২ থেকে বেড়ে ৬-এ দাঁড়িয়েছে। যৌন হয়রানির ঘটনাও ১৭ থেকে বেড়ে ১৮ হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার এই ঊর্ধ্বগতি সামাজিক নিরাপত্তা, বিচারহীনতা এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। এমএসএফের মতে, এসব ঘটনা সমাজে নারীদের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানেরও ইঙ্গিত দেয়।

এমএসএফ আরও জানিয়েছে, মে মাসে ৬৯টি মব সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩২ জন নিহত ও ৭১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এপ্রিল মাসে এ ধরনের ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হন। অর্থাৎ মে মাসে মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত ও আহত ব্যক্তির সংখ্যা দুটোই বেড়েছে।

চুরি, ধর্ষণচেষ্টা ও জমি নিয়ে বিরোধের কারণে এসব মব সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া মে মাসে অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ৫৩টি। সংগঠনটি বলছে, পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করে, দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অভিযোগের ধরন থেকে দেখা যায়, সামাজিক বিরোধগুলো ক্রমেই সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।

মে মাসে নতুন ঝুঁকি হিসেবে অনলাইন জুয়া ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিস্তার লক্ষ করা গেছে। অনলাইন জুয়ার ঘটনায় একজনের মৃত্যু এবং পাঁচজন গ্রেপ্তারের তথ্য উঠে এসেছে। একই সময়ে মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় চারজন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ১৫ জন আটক হয়েছেন। এছাড়া পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের দুটি ঘটনা এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততার তিনটি অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমএসএফ আরও জানায়, এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা কম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, মে মাসে ৩৪ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এপ্রিলে সাংবাদিক নির্যাতনের সংখ্যা ছিল ৪৬ জন। তবে মে মাসে আইনি হয়রানির সংখ্যা বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিকের ওপর চাপের ধরন পরিবর্তন হয়েছে। শারীরিক হামলার পরিবর্তে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সংস্থাটির নির্বাহী সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকৃতি এখন আরও জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। প্রকাশ্য সহিংসতার কিছু ঘটনা কমলেও যৌন সহিংসতা, ডিজিটাল অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের সূচকগুলো বাড়ছে।

আরও পড়ুন

×