ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত

আনন্দযাত্রা মুহূর্তে রূপ নিল মৃত্যুযাত্রায়

আনন্দযাত্রা মুহূর্তে রূপ নিল মৃত্যুযাত্রায়
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমিহীন পরিবারের সন্তান আরিফ কিশোর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে পাড়ি জমিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। প্রবাসে ঘাম ঝরানো উপার্জনে জমি কিনে পরিবারের জন্য নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বিয়ে করবেন বলে এক দশক পর গত সোমবার রাতে ছুটিতে দেশে ফেরেন আরিফ। এক বুক আশা ও আনন্দ নিয়ে সন্তানকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিমানবন্দরে ছুটে গিয়েছিলেন মা নূরজাহানসহ পুরো পরিবার। কিন্তু ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনার ওই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন নিহত হন।

গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ভাঙ্গার মালীগ্রাম ফ্লাইওভার এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে প্রবাসীর পরিবারকে বহনকারী প্রাইভেটকারটি ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মঙ্গলবার ও সোমবার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও চারজনের মৃত্যু ঘটে।

ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন– ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্ৰামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নূরজাহান (৫০), তাঁর ছেলে প্রবাসী আরিফ ইসলাম (২৭), মো. রাকিব (১৮), মেয়ে আয়শা বেগম (২৮) ও মনিরামপুর উপজেলার আটঘরা গ্রামের গাড়িচালক জাহিদ শেখ (২৫)। এ ছাড়া আহত হয়েছে প্রবাসীর পরিবারের আশরাফুল হোসেন (৭) ও তাছফিয়া (৩) নামে দুই শিশু।
এ ঘটনায় দীর্ঘদিন পর ছেলে বাড়ি ফেরার আনন্দ রূপ নিয়েছে বিষাদে। পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে শুধু বাড়িতে থাকার কারণে বেঁচে গেছেন আরিফের বাবা শহিদুল ইসলাম।
আরিফের মামা নজরুল ইসলাম বলেন, আরিফ ১১ বছর বিদেশ ছিলেন। সোমবার রাতে বিমানবন্দরে নেমেছিল। সন্তানকে আনতে গিয়েছিল মা নূরজাহান বেগম ও তাঁর দুই সন্তান, নাতি-নাতনি। ফেরার পথে একই পরিবারের চারজন মারা গেছে। বাবা ছাড়া পরিবারে কেউ নেই। বাড়িতে কান্নার লোক নেই।

মামাতো ভাই মিন্টু রহমান বলেন, পরিবার খুবই দরিদ্র ও ভূমিহীন ছিল। সংসারের সুখ ফেরাতে বিদেশ গিয়েছিল। বাড়ির জন্য জমি কিনেছিল, বাড়ি করেছে। সংসারে সুখ ফিরেছে, কিন্তু সেই সুখ আর হলো না। বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। তাদের মরদেহ আনতে স্বজনরা ফরিদপুর গেছেন। মঙ্গলবার রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর জানান, ঢাকা থেকে যশোরগামী একটি প্রাইভেটকার ভাঙ্গা মালীগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে একই লেনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গ্যাস বোঝাই ট্রাকের পেছনে সজোরে ঢুকে যায়। এতে ঘটনাস্থলে দুই নারী ও পুরুষসহ চারজন নিহত হন এবং এক শিশুসহ আরও তিনজন আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়ার পর আহত আরও একজন মারা যায়। 

শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে একজন নিহত
নওগাঁয় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস এবং অটোরিকশার সংঘর্ষে নওসাদ নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকার তুলসীগঙ্গা সেতু মোড় নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত নওসাদ (২৪) নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী সিংড়াপাড়া গ্রামের মৃত জাফির আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে শাহ সুলতান পরিবহনের একটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছু দূরে তুলসীগঙ্গা সেতু মোড়ে বাসটি পৌঁছালে অসাবধানতবশত বাসের মালাপত্র রাখার বাক্সের ঢাকনা খুলে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী অটোরিকশায় বাসের বাক্সের ঢাকনাটি সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে অটোরিকশার সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে অটোরিকশার যাত্রী নওসাদ মারা যান। এ সময় অটোরিকশায় থাকা দুই শিশু যাত্রী গুরুতর আহত হয়।

মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু
যশোরের অভয়নগরে রাস্তা পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শাহাজান মজুমদার নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বারান্দি গ্রামে ভবদহ-টেকা সড়কের পালবাড়ি মোড় নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহাজান মজুমদার (৭৫) পায়রা ইউনিয়নের বারান্দি গ্রামের মৃত মোকসেদ মজুমদারের ছেলে।
পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর শাহ আমানত সেতুতে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন– পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা গ্রামের বাসিন্দা দুর্গাপদ মল্লিক (৭০) ও তাঁর ছেলে বিধান মল্লিক (৪৭)। বিধান মল্লিক কর্ণফুলী বড় উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সমকাল অফিস ও প্রতিনিধিরা)
 

আরও পড়ুন

×