ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রতিটি মানুষের কথা চিন্তা করেই আগামীর বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

প্রতিটি মানুষের কথা চিন্তা করেই আগামীর বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
×

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ১৫:৪১

দেশের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের কথা চিন্তা করেই আগামীর বাজেট দেওয়া হচ্ছে। বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে বাজেটের সুফল যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যেখানে উন্নয়নের সুফল শুধু নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমাজের সব স্তরের মানুষ তার সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাজেটে বিভিন্ন খাতের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও প্রণোদনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতীতে দেশকে যে ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, বিগত সময়ে দেশকে যে ঋণনির্ভরতার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখান থেকে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভরতা বাড়াতে হবে। অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি অপরিহার্য।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই নতুন বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। সরকার এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আস্থা নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারেন।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অর্থনীতি দুর্বল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এর প্রভাব বিভিন্ন খাতে এখনও রয়ে গেছে। তবে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও নতুন বাজেটের মাধ্যমে ইতিবাচক সূচনা হবে বলে তিনি আশাবাদী। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সেই লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে গতি সঞ্চার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বাজেট বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের অর্থনীতিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরির বিষয়টিও নতুন বাজেটে গুরুত্ব পাবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ও টেকসই অবস্থানে নিয়ে যেতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন

×