ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রূপগঞ্জে মাদ্রাসাশিক্ষক, মুন্সীগঞ্জে রেস্তোরাঁর কর্মীকে গণপিটুনি

রূপগঞ্জে মাদ্রাসাশিক্ষক, মুন্সীগঞ্জে রেস্তোরাঁর কর্মীকে গণপিটুনি
×

মুন্সীগঞ্জ ও রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক মাদ্রাসাশিক্ষক এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক রেস্তোরাঁ কর্মচারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এসব ঘটনা ঘটে।

রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ডহরগাঁও এলাকায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে ওজু শেখানোর ছলে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুল্লাহ ইসানুর নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরের দিকে ডহরগাঁও গ্রামের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক সুনামগঞ্জের দিরাই থানার মাছিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডহরগাঁও এলাকার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডহরগাঁওয়ে দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে একা বসবাস করেন আব্দুল্লাহ ইসানুর। ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের আরবি বিষয়ে প্রাইভেট পড়ান। গতকাল দুপুরে পড়া চলাকালীন একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শিশুটিকে ওজু শিখিয়ে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষক ইসানুর বাথরুমে ডেকে নেন। সেখানে তিনি শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে বাইরে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা বাথরুমের দরজা ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে। শিশুদের কান্নাকাটি ও চিৎকার শুনে আশপাশের ভাড়াটিয়া ওই ফ্ল্যাটে ছুটে যান। তারা বাথরুমের দরজা ভেঙে ঢুকে ইসানুরকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় উপস্থিত উত্তেজিত জনতা শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল গিয়ে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে চিকিৎসার পর থানায় নিয়ে যায়।

​এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে আব্দুল্লাহ ইসানুরকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক পুলিশি হেফাজতে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করেছেন। 
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডহরগাঁও এলাকায় শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে রূপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করছে এবং ভুক্তভোগী শিশুর মেডিকেল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গতকাল দুপুরের পর আসামি আব্দুল্লাহ ইসানুরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। 

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মঞ্জু হোসেন (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মঞ্জু স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁর কর্মচারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটির মা বিষয়টি দেখে ফেলে চিৎকার করেন। এতে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত মঞ্জুকে আটক করে পিটুনি দেয়। পরে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করে। এর আগে অভিযোগ অস্বীকার করে মঞ্জু হোসেন বলেন, তিনি হাঁটতে বের হয়ে শিশুটিকে একা দেখে নাম জিজ্ঞেস করতেই স্থানীয় লোকজন তাঁকে মারধর শুরু করে।
গজারিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে উদ্ধার করে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×