৯ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানে ৩৬০০ কোটি টাকার ‘আর্ন’ প্রকল্প
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০১:৫০ | আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ | ০১:৫৪
শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রকল্পের ১০টি প্যাকেজের সবগুলোর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। প্রকল্পটির নাম ইকোনমিক অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (আর্ন)।
সরকারের লক্ষ্য, ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সের প্রায় ৯ লাখ তরুণ-তরুণীকে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা। এদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই নারী।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা যুবকের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বব্যাংকের ক্রয় নির্দেশিকা অনুযায়ী উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ায় সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ৪০১টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহপত্র জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়। পরে ৬৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেয়। কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন শেষে বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তির ভিত্তিতে চারটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। এর মধ্যে ব্র্যাক ঢাকা ও রংপুর বিভাগে, সেভ দ্য চিলড্রেন বরিশাল বিভাগ এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকায়, কেয়ার বাংলাদেশ তিন পার্বত্য জেলা, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন সিলেট বিভাগসহ কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
প্রকল্পের আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের ৬৪ জেলার ২৫০ উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে আট লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান, স্ব-কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ, সিড ফান্ড এবং বিভিন্ন আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রকল্প পরিচালক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, এটি শুধু প্রশিক্ষণভিত্তিক কোনো প্রকল্প নয়; বরং তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার একটি সমন্বিত উদ্যোগ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার যুবসমাজকে দক্ষতা, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগের আওতায় আনাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
মোখলেছুর রহমান আরও বলেন, দেশে অনেক তরুণ প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরও অর্থের অভাব, অবস্থানগত সীমাবদ্ধতা, ইন্টার্নশিপের সুযোগ না থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারেন না। আর্ন প্রকল্প এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে তাদের কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
