ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

নাগরিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মাহমুদুর রহমান মান্না

সরকারের চার মাসেই অর্থনীতি আইনশৃঙ্খলায় অশনিসংকেত

সরকারকে সব প্রশ্ন ও সমালোচনার জবাব ধৈর্যের সঙ্গেই দিতে হবে: ড. মঈন খান

সরকারের চার মাসেই অর্থনীতি আইনশৃঙ্খলায় অশনিসংকেত
×

রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৭:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সরকারের চার মাসের মধ্যেই আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখতে পাচ্ছি। দ্রব্যমূল্য কমলোই না। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলাসহ সবকিছুতেই অশনিসংকেত। এখন মানুষ যেরকম করে চায়, মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষাই সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে। 
গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে নাগরিক ঐক্যের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিতে তা রাজনীতিবিদদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। 

বিএনপি ও জামায়াত জোটের বাইরে তাঁর (মান্না) নেতৃত্বে তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার জন্য উপস্থিত বিভিন্ন দলের নেতাদের আহ্বানের জবাবে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এখন সময় এসেছে সমমনা দলগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার। বড় দলগুলো যখন ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে, তখন তারা ছোটদের 
গুরুত্ব দেয় না। তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর আরেকটি নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে যাতে মুক্তির চেতনা নিয়ে আমরা একসঙ্গে দাঁড়াতে পারি, সেই লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। তবে আমরা যেন এমন জায়গায় না থাকি, যেখানে জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই। বড় দলের জোটে থেকে নির্বাচন করার চেয়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করে মানুষের কাছে যাওয়া বেশি জরুরি। 

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনীতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মান্না। একই সঙ্গে বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাজেটের সময় বলা হলো, কর বাড়ানো 
হবে না। এখন কর বাড়াচ্ছেন। তার মানে, সরকারের কাছে টাকা নেই। এখন মানুষের কাছ থেকে কর আদায় করে রাষ্ট্র চালানোর এমন বড়লোকির বাজেটের প্রয়োজন ছিল না। 
নাগরিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও দলটির লক্ষ্য তুলে ধরে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি আরও বলেন, কোনা নির্দিষ্ট সরকার বা নির্দিষ্ট দলের প্রতি আমাদের বিশেষ কোনো ভালোবাসা নেই। কেবল জনগণের প্রতি ভালোবাসা আছে। জনগণের কল্যাণের জন্য যার কাছে যাওয়া দরকার যাব। তবে আমরা  কোনো দলের অন্ধ অনুসারী হতে আসিনি। নাগরিক ঐক্যের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের এই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে আমরা তাদের সঙ্গে থাকব না।

নির্লোভ ও নির্মোহভাবে দেশের সব সংকট মোকাবিলায় সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এমপি বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি করা এবং নেতৃত্ব দিয়ে সামনের দিকে দেশকে এগিয়ে নিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা খুবই কঠিন। এ জন্য ধৈর্যের সঙ্গে সবকিছু পরিচালনা করতে হবে। সরকারকেও সব প্রশ্ন ও সমালোচনার জবাব ধৈর্যের সঙ্গেই দিতে হবে। ধৈর্যহীন হয়ে কঠোরভাবে জবাব দিতে চাইলে অতীতের মতোই সংকটে পড়ে যেতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি সরকারের চার মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে কোনো সরকার এতটা অজনপ্রিয় এর আগে হয়নি। এত অল্প সময়ের মধ্যে কোনো সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ ও মিছিল হয়নি। সুতরাং সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন এমপি বলেন, এই সরকার প্রথম দিন থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রকৃত কল্যাণের জন্য সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। তাই সরকারকে অতি দ্রুত নাগরিকদের প্রকৃত কল্যাণের জন্য গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। 
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকারের ওপর এখনও মানুষের বিপুল প্রত্যাশা। অর্থনীতি ও সামাজিক দিক দিয়ে তারা ইতিবাচক বার্তাও দিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার ততটা স্কোর করতে পারছে না। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে, জনগণের সব আশা-আকাঙ্ক্ষাও পূরণ করবে। না হলে বাংলাদেশ আবারও পেছনের দিকেই হাঁটবে। 

নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সারের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়কারী টিপু বিশ্বাস, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম, গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশীদ নিলু, গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বিকল্পধারা বাংলাদেশের অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সাবেক আহ্বায়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ডেমোক্রেটিক লীগের মাহবুব আলম, সাম্যবাদী দলের (এমএল) ডা. নুরুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) খোন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ। 
সভায় নাগরিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারা। সব শেষে গণসংগীত পরিবেশন করা হয়। 

আরও পড়ুন

×