সিনেট থেকে ডাকসুর পাঁচ সদস্যের ওয়াকআউট
শেখ পরিবারের নামে স্থাপনা
ঢাবির সিনেট অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান ডাকসুর পাঁচ সদস্য (ছবি: সংগৃহীত)
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ১৪:০৬ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ | ১৪:০৮
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে মনোনীত পাঁচ সদস্য। সোমবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।
সিনেট সভার চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনা—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার ও সুলতানা কামাল হোস্টেলের নাম পরিবর্তরের বিষয়ে সিনেট সদস্যদের মতামত আহ্বান করেন।
এ সময় সিনেট সদস্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানতে চান, এ বিষয়ে সিন্ডিকেট কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা। জবাবে উপাচার্য জানান, বিষয়টি এখনও সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়নি। এরপর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এ ধরনের প্রস্তাব আগে সিন্ডিকেটে অনুমোদন নিয়ে পরে সিনেটে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
তবে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ এদিনই সিনেটে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান।
এস এম ফরহাদ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আইকনগুলো এখনও থাকায় ওই হলগুলোর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’
ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘স্মৃতিসৌধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা ফুল দিতে গেলে হলের নাম দেখে পুলিশ তাদের দৌড়ানি দেয়। আবার এই নামের কারণে ডিবেট ক্লাবও অনেক জায়গা থেকে তহবিল পায়নি। এতে শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগী হচ্ছেন।’
পরে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডাকসু থেকে মনোনীত পাঁচ সদস্য সভা বর্জন করেন।
ওয়াকআউট করা সদস্যরা হলেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।
এর আগে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সময় সিন্ডিকেট সভায় শেখ পরিবারের নামে থাকা স্থাপনাগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সেটি সিনেটে পাঠানো হয়েছিল।
