হোলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান বাংলাদেশের
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৩৬ | আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৪২
রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার দশম বছরে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের ‘জিরো টলারেন্স’ বা ‘শূন্য সহনশীল’ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সরকার ও বিদেশি কূটনীতিকরা হোলি আর্টিজান বেকারি হামলায় নিহতদের স্মরণ করে শান্তি, সহনশীলতা ও মানবতার আদর্শ সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টার পর গুলশানে ইতালি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘শূন্য সহনশীল’ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ। জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এসময় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, হামলা থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের ওই বেকারিতে জঙ্গিদের হামলায় মোট ২৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সাত বাংলাদেশি, নয় ইতালীয়, সাত জাপানি ও এক ভারতীয় নাগরিক।
অনুষ্ঠানে একটি নামফলকের সামনে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রদূত আলবার্ট সিয়া, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ রামাদান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সর্বক্ষেত্রে মোকাবিলায় আমাদের সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ ধরনের শক্তির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে তাদের কখনোই সুযোগ দেওয়া হবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা শুধু তাদের (নিহত ব্যক্তিদের) স্মৃতির প্রতি নয়, তাদের পরিবারগুলোর সাহস, সহনশীলতা ও ঐক্যের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাই। একজন মা ও অভিভাবক হিসেবে সন্তান ও পরিবারের সদস্য হারানো পরিবারগুলোর প্রতি আমার হৃদয়ের গভীর সহমর্মিতা রইল। তাদের স্মৃতি যেন ঘৃণা ও সংঘাতের বিরুদ্ধে আমাদের পথ দেখায়। মানবতা, সহমর্মিতা ও সহনশীলতার মূল্যবোধ আমরা যেন সব সময় ধরে রাখি।
শামা ওবায়েদ বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় সরকার একটি ‘সমগ্র সরকার’ ও ‘সমগ্র সমাজ’ভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করেছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নারী ও তরুণ, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসময় সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের সব ধরনের রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি সরকারের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালের ওই হামলার মাধ্যমে জঙ্গিরা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা ও বিভাজন সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তবে সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি, বরং মানুষের মধ্যে সংহতি, পারস্পরিক সংলাপ এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে দেশে সন্ত্রাসবাদ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ২৪ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। ইতালীয়রা বাংলাদেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর জাপানি নাগরিকরা জাইকার মাধ্যমে ঢাকার মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ করছিলেন।
অনুষ্ঠানে ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলার একটি বার্তাও পাঠ করে শোনান রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রো। বার্তায় বলা হয়, সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়াতে ও বিভাজন সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। কিন্তু এর পরিবর্তে মানুষের মধ্যে সংহতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে সংলাপের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা আরও বেড়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে ফারাজ আইয়াজ হোসেনের বড় ভাই যারেফ আয়াত হোসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশ ও ঢাকায় অবস্থানকারী প্রবাসী ইতালীয়দের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নিহত ফারাজ আইয়াজ হোসেনের মা ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান, নিহত ইতালি ও জাপানের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যরা, যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রদূত আলবার্ট সিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা।
- বিষয় :
- হলি আর্টিসান
- জঙ্গি হামলা
