ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সরকার নিয়ন্ত্রিত মানবাধিকার কমিশন গঠন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে: ড. ইফতেখারুজ্জামান

সরকার নিয়ন্ত্রিত মানবাধিকার কমিশন গঠন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে: ড. ইফতেখারুজ্জামান
×

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে অধিপরামর্শ সভায় কথা বলছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৪১ | আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৪৩

সরকার প্রণীত খসড়া অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পাস করা হলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীন ও কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারনিয়ন্ত্রিত ও জনগণের ওপর একটি অকার্যকর মানবাধিকার কমিশন চাপিয়ে দেওয়া হলে তা বর্তমান সরকারের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬ (খসড়া) পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।

সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬-এর খসড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবি। সংস্থাটির দাবি, বর্তমান খসড়া অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করা হলে কমিশনের ক্ষমতা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশের তুলনায় আরও কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী সরকার থাকলেও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এভাবে দলীয়করণ করে অকার্যকর করার নজির খুব কম। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই সরকার জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল না করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, যে সরকার বা রাজনৈতিক শক্তি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবে পরিচালিত করে, শেষ পর্যন্ত তারাই সেই অকার্যকর প্রতিষ্ঠানের নেতিবাচক পরিণতির শিকার হয়। কারণ ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।

খসড়া আইন পর্যালোচনা করে ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরে টিআইবি। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে সরকার প্রমাণ করবে যে দেশে একটি স্বাধীন ও কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠায় তাদের প্রকৃত সদিচ্ছা নেই। তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্রসংস্কার কর্মসূচি, নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটি স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন করা সম্ভব।

সভায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে ক্ষমতাসীনদের একটি অংশ স্বল্পমেয়াদি সুবিধার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে। অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের ভেতরেই পরিবর্তনবিরোধী শক্তি সক্রিয় থাকে। রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি আমলাতন্ত্রের প্রভাবও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, যার প্রতিফলন মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ায় দেখা গেছে।

খসড়ার কয়েকটি ধারা নিয়ে নির্দিষ্ট আপত্তিও তুলে ধরে টিআইবি। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ১৩ নম্বর ধারায় কমিশনের তদন্ত, পরিদর্শন ও তদারকির ক্ষমতার আওতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা ও নজরদারি সংস্থার সম্ভাব্য গোপন আটককেন্দ্র বা তথাকথিত ‘আয়না ঘর’ পরিদর্শনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে গোপন আটক বা অবৈধ আটকের অভিযোগ তদন্তে কমিশনের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এ ছাড়া খসড়ার ২০ নম্বর ধারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত রাখার প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করে টিআইবি। সংস্থাটি মনে করে, এসব বিধান বহাল থাকলে কমিশনের স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা ও কার্যকর ভূমিকা পালনের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরও পড়ুন

×