প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনি সংস্কারের তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ২০:৩১
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতা মোকাবিলায় সময়োপযোগী আইনি সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর আইন প্রণয়ন ও সংস্কারে আইনজীবী, গবেষক এবং আইনবিষয়ক সাংবাদিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
শুক্রবার রাজধানীতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ ও রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করে। গণমাধ্যম যত বেশি বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল হবে, নাগরিকেরা তত বেশি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আর বিচার বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের আস্থা গড়ে তুলতে আইনবিষয়ক সাংবাদিকদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবন সহজ করলেও নতুন ধরনের জটিলতাও তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি ছবি, ভিডিও ও তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং এসব বিষয়ে আইনের অবস্থান এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয়। এ বাস্তবতায় প্রচলিত আইনকে দ্রুত সময়োপযোগী করে তোলার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, সমাজের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনেরও পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আইনি সংস্কারের গতি এখনো কাঙ্ক্ষিত নয়। এ ব্যবধান দূর করতে আইনজীবী, বিচারবিশারদ, গবেষক এবং আইনবিষয়ক সাংবাদিকদের একযোগে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, সাইবার আইন সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এ-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্য হিসেবে তিনিও দায়িত্ব পালন করছেন। আধুনিক, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত আইনি কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার শিগগিরই আইন বিশেষজ্ঞ এবং ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের মতো পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে মতামত ও সুপারিশ নেবে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তবায়নযোগ্য আইন প্রণয়নে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বার্ষিক সাধারণ সভা শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বাস্তবতায় আইন ও বিচারব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যকর ভাবনার সূচনা করুক।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উইদাউট ডেটা, এনি ইনফরমেশন ইজ নাথিং বাট ওপিনিয়ন।’ তাই তথ্য, মতামত, অনুমান ও বাস্তবতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করাই গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব। বিশেষ করে আইনবিষয়ক সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতাই হওয়া উচিত একমাত্র মানদণ্ড।
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, ব্যারিস্টার শিশির মনির, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি সালেহউদ্দিনসহ বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বক্তব্য দেন।
- বিষয় :
- তথ্যমন্ত্রী
- প্রযুক্তি
- আইন
- সংস্কার
