ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

আলোচনা সভা

কালেমা লেখা পতাকায় জঙ্গি নাটক তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে

শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারবেন না, তাঁর হাতে রক্তের দাগ

কালেমা লেখা পতাকায় জঙ্গি  নাটক তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে
×

আসাদুজ্জামান রিপন

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, হঠাৎ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেমা লেখা পতাকা টানানোর মাধ্যমে জঙ্গিবাদের নাটক তৈরির চেষ্টা চলছে। দেশে জঙ্গিবাদ আছে, সেটি দেখাতে এই ধরনের সাজানো নাটক শেখ হাসিনা করতেন। সেই ধরনের ষড়যন্ত্র আবারও শুরু হয়েছে। এ নিয়ে দেশের মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় আসাদুজ্জামান রিপন এসব কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। 
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো রাজনৈতিক বাস্তবতা নেই মন্তব্য করে আসাদুজ্জামান বলেন, বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। তিনি ফিরতে পারবেন না। কারণ তাঁর হাতে রক্তের দাগ। 

বিএনপির এই নেতা বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতির পরিবর্তন কখনোই রাতারাতি আসে না। ১৭ বছর ধরে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী কাঠামো চার মাসে পরিবর্তন করা যায় না। পরিবর্তন ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশও সেই পথেই এগোচ্ছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।
সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জুলাই, সেই আকাঙ্ক্ষার ধারেকাছে যেতে পারিনি আমরা। জুলাই সনদ নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে; অন্যদিকে সরকার দাবি করছে, এটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না, জুলাই সনদ কবে বাস্তবায়ন হবে।’ 

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘মানুষের জীবন বদলের যেসব প্রস্তাব জুলাই সনদে রয়েছে, তার একটাও বাস্তবায়ন হয়নি। বরং অনেকগুলোই বাদ দেওয়া হয়েছে। জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের অনেক কিছু এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেসব অধ্যাদেশ করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই বাতিল হয়ে গেছে। জুলাইয়ের চেতনার বাস্তবায়ন চাই। তবে সেটি কী পদ্ধতিতে হবে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার।’

জুলাই চেতনার বাস্তবায়নে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, সামগ্রিক পরিবর্তন প্রয়োজন উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মুক্তিযুদ্ধের এক বছরের মধ্যে এর চেতনা হারিয়ে যেতে শুরু করেছিল। দুই বছর পরও মানুষের মধ্যে এখনও জুলাই চেতনা রয়ে গেছে। এখনও মানুষ জুলাইকে মনেপ্রাণে ধারণ করে। সত্যকে আগলে রাখতে হবে, সৎ পথে চলতে হবে। 
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান 

আযাদ বলেন, ‘জুলাই আমাদের প্রবল 
আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সেই আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের পরিবর্তে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং একটি ঐক্যবদ্ধ, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলা। জুলাই আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়েছে। তরুণরা যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তাদের থামিয়ে রাখা যায় না।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, ‘হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের যে রায় দিয়েছে, জনগণ সেই রায় ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটেই দিয়ে দিয়েছিল। এখন সেই জনরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদালতের মুখাপেক্ষী করার চেষ্টা হলে আমরা মেনে নেব না।’ 
সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘নানা শক্তি জুলাইকে অপমান ও অপদস্থ করার চেষ্টা করছে। অবশ্যই আমরা জুলাইকে ধারণ করে যাব।’
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসাইনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জুলাই অভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব ও ডেইলি ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুল ওহাব মিনার, নারী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ফারাহ নাজ, জুলাই শহীদ আরাফাত হোসেনের বড় ভাই হাসান আলী, সাংবাদিক সালাউদ্দীন বাবলু প্রমুখ। 

আরও পড়ুন

×