সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের ফ্ল্যাট যেন অভিজাত শো-রুম
৩০০ কোট, ৫০০ টাই, মুক্তার গহনা
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া কোর্ট-ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ২১:৫৪ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ২২:২৩
ঢাকার গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দু’টি ফ্ল্যাট যেন অভিজাত এলাকার সুসজ্জিত কোনো বাণিজ্যিক শো-রুম। কি নেই তাতে- দামি পোশাক, কোট, টাই, ঘড়ি, দামি গহনা, জুতা, আধুনিক আসবাবপত্রসহ হরেক রকমের সামগ্রী রয়েছে। আজ রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে যৌথ টাস্কফোর্সের প্রধান ও দুদক উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গুলশান নর্থওয়েস্ট বি ব্লকের ‘চিত্রা’ ভবনের আট তলার জাবেদের মালিকানাধীন ফ্ল্যাট দু’টির দরজার তালা খোলা হয়। দুদক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, জাবেদের বিরুদ্ধে করা মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্ল্যাট দু’টি খোলা হয়। আদালত দুদককে এই ফ্ল্যাট দু’টির রিসিভার নিযুক্ত করেছেন। চট্টগ্রামে আরও আটটি ফ্ল্যাটের রিসিভার নিযুক্ত করা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে। গুলশানের ফ্ল্যাট দু’টিতে থাকা জিনিসপত্রের তালিকা তৈরির কাজ আজ শেষ করা যায়নি। আগামীকাল সোমবার আবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন করবে। গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমান এ ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে জাবেদ দেশত্যাগ করেছেন। এ দিকে তাঁর বিরুদ্ধে দুদক, সিআইডি, এনবিআরসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স তদন্ত করছে।
জানা গেছে, ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুটের এ-৭ এবং ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুটের বি-৭ নং ফ্ল্যাট দু’টির মধ্যে জাবেদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকতেন এ-৭ ফ্ল্যাটটিতে। অপর ফ্ল্যাটটি ছিল তার বৈঠকখানা। যৌথ টাস্কফোর্সের তল্লাসিতে এ-৭ ফ্ল্যাটটিতে ৩০০ এর বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ৪টি রোলেক্সসহ ৮টি দামি ঘড়ির বাক্স, ৩ সেট মুক্তার গহনা, ৪টি অত্যাধুনিক ঝাড়বাতি, দামি সোফা একশটির বেশি কামিজ উদ্ধার করা হয়েছে। উচ্চ মূল্যের আধুনিক একটি বেড রয়েছে ফ্ল্যাটটিতে। রোলেক্স ঘড়ির ক্রয় রসিদও পাওয়া গেছে। তাতে একেকটি ঘড়ির মূল্য ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।

ওই ফ্ল্যাটের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, আলমারি ভর্তি দামি দামি কোট, বাক্স ভর্তি টাই, দামি বেল্ট, গহনা। ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুটের বিস্তৃত একটি ফ্ল্যাট সাজানো হয়েছে এক অভিজাত এলাকার শো-রুমের মতো।
জানা গেছে, টাস্কফোর্স সদস্যরা দু’টি ফ্ল্যাটে পাওয়া পণ্যের পুরো তালিকা তৈরি করে পরে আদালতে পেশ করা হবে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী- দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট পণ্য-সামগ্রীর রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এরপর দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তত্ত্বাবধানে ফ্ল্যাট দু’টি বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী ভাড়া দেওয়া হবে। ভাড়া থেকে পাওয়া অর্থ যথাযথভাবে ব্যাংকে জমা রাখা হবে। মামলার চূড়ান্ত রায়ে ওইসব অর্থ সম্পদের মালিকানা নির্ধারণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাবেদের নামে যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেন। গত ১৩ জানুয়ারি আরব আমিরাতসহ আট দেশে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর নামে থাকা দুটি কোম্পানিও অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়। কোম্পানি দু’টিতে বিনিয়োগ ও সম্পদ প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল ভূমি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গত ২০২৪ সালের ৮ জুলাই আদালতের আদেশে গুলশান এলাকায় পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জব্দ হওয়া চারটি ফ্ল্যাটের তালা খুলে ফ্ল্যাটগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দুদক। এবার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হলো সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের দশটি ফ্ল্যাট।
- বিষয় :
- ভূমিমন্ত্রী
- সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ
- দুদক